২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`

সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন - ছবি : সংগৃহীত

১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশে ৬০ টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ ধাপের ৬০ টি পৌরসভার মধ্যে ২৮ টিতে ইভিএমে ও ৩২ টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৪ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৬১ টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হলেও সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া মামলাজনিত কারণে পাবনার সুজানগর পৌরসভার ভোট স্থগিত হয়েছে।

সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে জানা যায়, বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের চুড়ান্ত প্রস্তুতির বিস্তারিত-

শরীয়তপুর : শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাচন আগামীকাল। জেলায় এই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। ভোট গ্রহণে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রির্টানিং কর্মকর্তা। নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরের মধ্যে নির্বাচনী কেন্দ্র গুলোতে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে বলে বাসস’কে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. জাহিদ হোসেন। এ ছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরছি, শরীয়তপুর পৌরবাসীকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। নির্বাচনে ৪ জন দলীয় মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এডভোকেট পারভেজ রহমান জন নৌকা, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট লুৎফর রহমান ঢালি ধানের শীষ, জাতীয়পার্টি সাহিদ সরদার লাঙ্গল ও ইসলামী আন্দোনের আলহাজ তানভির আহম্মেদ বেলাল হাতপাখা প্রতিকে নির্বাচন করছেন। ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, শরীয়তপুর পৌরসভায় ১৮টি ভোট কেন্দ্রে মোট ৩৮ হাজার ৬০০ জন ভোটার প্রথমবারের মতো ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় আছেন।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে ব্যালট দেওয়া হয়নি। কুষ্টিয়ার রিটানিং কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোটগ্রহণের দিন আগামীকাল সকাল ৭টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।

শুক্রবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সদর পৌরসভার ৬২টি কেন্দ্রে ব্যালটবাক্স, সীলসহ নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়। জেলা রিটানিং কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার এর কাছ থেকে স্ব-স্ব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে পোলিং এজেন্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী সামংগ্রী গ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিটি ভোট কক্ষের জন্য করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বাকী পৌরসভাগুলোতেও স্ব-স্ব উপজেলা থেকে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

আগামীকাল দেশের দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় চারটি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে কুমারখালী পৌরসভায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট গ্রহন হবে। সেখানকার কেন্দ্রগুলোতে ইভিএম মেশিন দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আর কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর ও ভেড়ামারা পৌরসভায় ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে। এর জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা রিটানিং কর্মকর্তা।

দিনাজপুর : দিনাজপুর জেলার ৩টি পৌরসভায় আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। ৩টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণে আইন শৃংখলা বাহিনীর ১ হাজার ৭৫৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, দিনাজপুর, বিরামপুর ও বীরগঞ্জে পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণে এই ৩টি পৌরসভায় ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ৬৪টি কেন্দ্রে ৮৮৭টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বুথে ৩জন করে কর্মকর্তা নিয়োগ থাকবে। ভোট কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং এবং একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবে।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজ পর্যন্ত অহেতুক চলাফেরা রোধ করতে সর্তকতা জারী থাকবে। পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এই ৩টি পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অতিরিক্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৩ হাজার ৪৯ জন ও মহিলা ৬৭ হাজার ৮১৫ জন। ১২টি সাধারণ ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। বিরামপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৬ হাজার ৫৫৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৯৫২ জন ও মহিলা ১৮ হাজার ৭১৬ জন। এই পৌরসভায় ৯টি সাধারণ ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। বীরগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৪৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৪৯৫ জন ও মহিলা ৮ হাজার ৪ জন। এই পৌরসভায় ৯টি সাধারণ ও ৩টি মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে।

কুমিল্লা : জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি জেলায় দ্বিতীয় ধাপে চান্দিনা পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ৩টি পদে ৭জন প্রার্থী এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ৯টি পদে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিন সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য ২৯১ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। চান্দিনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৫টি কেন্দ্রে ৯২টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। পৌরসভার ১৬ হাজার ১৭০ জন মহিলা ভোটারসহ মোট ৩১ হাজার ৮৪৮ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য জেলা উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পুলিশ ও আনসার নিয়োগ করা হয়েছে।

নীলফামারী : জেলার সৈয়দপুর পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারির মেয়র পদের নির্বাচন বাতিল ও অন্যন্য পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের মৃত্যুতে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই আদেশ জারী করে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ২০ অনুসারে উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে মেয়র পদের নির্বাচন বাতিল ও অন্যান্য পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়র পদের নির্বাচন বাতিল এবং সকল কাউন্সিলর পদের নির্বাচন স্থগিতের আদেশ নির্বাচনী এলাকায় জারি করা হয়েছে।’



আরো সংবাদ