২৬ অক্টোবর ২০২০
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইন

নাম-পদবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পাল্টালো ইসি


স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পরিচালনা আইন-২০২০ এর মাধমে বাংলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি পরিবর্তনের যে চিন্তা করেছিল সেটা থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সেগুলোর পদবির নামের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমরা আইন বাংলায় রূপান্তর করলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও পদবির নামগুলো প্রচলিত শব্দগুলোই রাখা হবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে ব্যবহৃত নাম ও পদবিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন,নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার কারণে জ্যেষ্ঠ কমিশনার মাহবুব তালুকদার বৈঠকে যোগ দেননি।

আগারগাস্থ নির্বাচন ভবনে সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পরিচালনা আইন-২০২০’ অনুমোদন দেয় ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ইসি সচিব মো. আলমগীরের কাছে একজন কমিশনার বৈঠকে উপস্থিত না থাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, তিনি যেহেতু এর আগের বৈঠকে আইনটি প্রণয়নের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, তাই তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৬৯ তম কমিশন সভায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। ওই সভায় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাই সভা মুলতবি করা হয়েছিল।

মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোরর আইন সমন্বিত করে বাংলায় রূপান্তর করার উদ্যোগ নেয় কমিশন। নতুন প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় সিটি করপোরেশনকে মহানগর সভা, পৌরসভাকে নগর সভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। সিটি মেয়রের পদকে মহানগর আধিকারিক, পৌর মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপিতা, কাউন্সিলরকে পরিষদ সদস্য, ওয়ার্ডকে মহল্লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলা পরিষদের প্রধান, উপ-প্রধান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে পল্লী পরিষদ প্রধান করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বৈঠকে এ বিষয়টি থেকে কমিশন সরে এসেছে।

আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাটা কমিশনের দুর্বলতার পরিচয় কি-না, জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, এটি একটি প্রস্তাবনা। তার ওপরই আলোচনা হচ্ছে। আইন প্রণয়ন করতে গেলে যতক্ষণ না সংসদে পাস হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে পরিবর্তনের। এখন যা হচ্ছে তা চূড়ান্ত নয়। এটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, কেবিনেটে যাবে, সংসদীয় কমিটিতে যাবে। সবখানেই খসড়াটির পরিবর্তন, পরিবর্ধন হতে পারে।

ইসি সচিব বলেন, এটি শিগগিরই ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে নাগরিক সমাজের মতামতের জন্য। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোকেও খসড়ার ওপর মতামত দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হবে। আবার স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংগঠনের কাছেও খসড়াটির ওপর মতামত দেয়ার জন্য পাঠানো হবে। তাদের সবার মতামতের ভিত্তিতেই খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।


আরো সংবাদ