২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক

ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক। - ছবি : নয়া দিগন্ত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার ওই চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে একটি প্রতিবাদ লিপি দিয়েছে ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।

সোমবার রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢামেকের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার বিচার দাবিতে থানায় একটি অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, ‘কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত ৯টার দিকে শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। দেখি, দু-তিনজন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলেন আমি জানি না। একপর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বসে আছি বললে তারা আমার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেয়ার পর তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চান। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে।’ তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সাথে সাথে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দু-তিনজন এসে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন। যে পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিলেন এবং চলে যেতে জোর করছিলেন। এমন সময় কেউ একজন আমার কানের উপর জোরে থাপ্পড় দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। ফলে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে, আট-১০ জন যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় উঠা পর্যন্ত।’

তিনি আরো বলেন, তাদের প্রায় সবার গায়েই ঢাবির লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এই বিষয়ে ফর্মাল কোনো অভিযোগ এখনো (প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত) পাইনি। অভিযোগ ফেলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইচিপের আল্টিমেটাম :

এ দিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।

মঙ্গলবার একটি প্রতিবাদ লিপিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বলেন, ঢাবির কতিপয় ছাত্র কর্তৃক শহীদ মিনার-প্রাঙ্গণে বিনা উষ্কানিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো: সাজ্জাদ হোসেনের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ বাধ্য থাকবে।


আরো সংবাদ


premium cement