২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
`

কোরবানির পর অনলাইনে এইচএসসির ফরম পূরণ : শিক্ষামন্ত্রী

কোরবানির পর অনলাইনে এইচএসসির ফরম পূরণ : শিক্ষামন্ত্রী - ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আটকে যাওয়া ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসিসহ সমমানের পরীক্ষার সম্ভাব্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এই পরীক্ষাগ্রহণ করা হবে। এ জন্য কোরবানি তথা ঈদুল আজহার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ অনলাইনে শুরু হবে। তাই কোনো শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হবে না। পরীক্ষার ফি নেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা নেয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ও মূল্যায়ণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ডা: দীপু মনি বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে চলতি বছরের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া হবে। এই পরীক্ষা হবে শুধুমাত্র তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি, ধর্মের মতো আবশ্যিক বিষয় বা চতুর্থ বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে না।

একইসাথে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে কোভিড পরিস্থিতি যদি অনুকূলে না থাকে তাহলে গত বছরের মতো এবারো বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে। এসএসসির ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট এবং এইচএসসির ক্ষেত্রে ১৫ সপ্তাহে ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে দু’টি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে যদি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে এসএসসি-র ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে দু’টি করে টানা ১২ সপ্তাহে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৮টি করে অ্যাসাইনমেন্ট করবেন শিক্ষার্থীরা। আর এইচএসসি-র ক্ষেত্রে তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের মোট ছয়টি পত্র রয়েছে। প্রতিটি পত্রের জন্য পাঁচটি করে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। গত বছর এই অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়ণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবারে এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করা হবে বলেও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে।

এবারও যদি অ্যাসাইনমেন্টে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে শুধুমাত্র সাবজেক্ট ম্যাপিং অর্থাৎ পূর্ববর্তী পরীক্ষার বিষয়-ভিত্তিক মূল্যায়ণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ডা: দীপু মনি বলেন, পরীক্ষা না হলে পূর্ববর্তী জেএসসি-জেডিসি-এসএসসির সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে ও অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন করা হবে।

অ্যাসাইনমেন্ট মূলত নেয়া হবে এটা ভেবে যে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পরীক্ষার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারেন। অন্য দিকে, আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ণ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হয়েছে। এ কারণে এগুলো আর প্রয়োজন হবে না।

অল্প বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে। তাই পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার ফিও কম নেয়া হবে। ফি পরিশোধ করতে হবে অনলাইনে। এ বিষয়ে বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুর হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে আরো উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদসহ অন্যান্য বোর্ডের চেয়ারম্যান।



আরো সংবাদ