১৩ জুন ২০২১
`

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান - ছবি : নয়া দিগন্ত

কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? এমন প্রশ্ন এখন সবার মনে। কেননা গত এক সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হচ্ছে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য। শিক্ষামন্ত্রী নিজেই স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। একদিকে পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে একদিনের ব্যবধানে তিনি নিজেই আবার বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে আমরা আগে অগ্রাধিকার দেবো। অর্থাৎ এক্ষুণি খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ গতকাল রোববার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ঈঙ্গিত দিয়েছেন ১৩ তারিখ স্কুল-কলেজ আপাতত খুলছে না। সরকারের মন্ত্রীদের এমন বিপরীত বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৭ মে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) এ কথা নির্দ্বিধায় লিখতে পারেন ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। অর্থাৎ সবার আগ্রহের দিক বিবেচনা করেই শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের ফোকাসই ছিল ১৩ জুন সবার অপেক্ষার অবসান ঘটবে। অর্থাৎ খুলে দেয়া হবে স্কুল-কলেজ। ওই দিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১৩ তারিখ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছেন। এর ঠিক একদিন পর ২৮ মে শিক্ষা অধিদফতর থেকে স্কুল কলেজ খোলার প্রস্তুতি নিতে সব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও নির্দেশনাও দেয়া হয়। এরপর ২৯ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী তার একদিন আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না এলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারছি না। কেননা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই আমরা আগে অগ্রাধিকার দেবো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে অদ্যাবধি বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর মধ্যে দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটি। প্রতিবার ছুটি বাড়ানোর পরপরই জানানো হয় এবারের ছুটি শেষ হওয়ার পরই খুলে দেয়া হবে স্কুল-কলেজ। ফলে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় ক্লাসে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরে জানানো হয় ছুটি আবার বর্ধিত করা হয়েছে।

অভিভাবকদের অনেকেই জানান, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন নিয়ে তারা রীতিমতো হতাশায় ভুগছেন। কেননা পড়ালেখার বাইরে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিপথগামী হচ্ছে। তারা স্কুলের শৃঙ্খলার বাইরে থাকায় তাদের বাবা-মায়েরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তাই যখনই স্কুল-কলেজ খোলার কোনো ঘোষণা তারা জানতে পারেন তখন আগ্রহ ও আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু পরে যখন আবার তারা পুনরায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সংবাদ পান তখন আশাহত হন। অন্য দিকে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হারও ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যানারেও প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠান না খুললে রাজপথে আন্দোলনেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ দিকে শিক্ষকদের মধ্যেও প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, সরকার মূলত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্তমিত করতে বা দমিয়ে রাখতেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গার্মেন্ট খোলা আছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা, চালু রয়েছে গণপরিবহনও। যথারীতি মার্র্কেট-শপিংমল খোলা আছে। অর্থাৎ বন্ধ নেই কোনো কিছুই। সবই খোলা আছে। উৎসব হচ্ছে, হচ্ছে নানা আয়োজন। কিন্তু বন্ধ শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ। যদিও বলা হয় শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদ । কিন্তু এই সরকারের কাছে শাসন হচ্ছে জাতির মেরুদ । তিনি বলেন, শিক্ষার্র্থীদের দমিয়ে রাখতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে ‘হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দাও আন্দোলন’ আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, শাসনের জন্য সরকার সবই করতে পারে, কিন্তু শিক্ষার জন্য করবে না। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখা যাবে। তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারবে না। এটা ছাড়া আর কোনো কারণ দেখি না।



আরো সংবাদ