২০ এপ্রিল ২০২১
`

দাখিলের উত্তরপত্র মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নিয়ে বিতর্ক

দাখিলের উত্তরপত্র মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নিয়ে বিতর্ক -

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের উত্তরপত্র মাদরাসা শিক্ষকের বাইরে অন্য ধারার শিক্ষকদের মাধ্যমে মূল্যায়নের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে এসব বিষয়ে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক কম। অনেক শিক্ষকের মধ্যে অতিরিক্ত নম্বর দেয়ার প্রবণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না বলেই তারা এমন সুপারিশ করেছেন।

নিয়মানুযায়ী সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মাদরাসা শিক্ষকরা বলছেন, মাদরাসাগুলোতে এখন আর এসব বিষয়ে যোগ্য শিক্ষকের সঙ্কট নেই। বিশেষজ্ঞরাও সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ব্যাপারে ভিন্ন মত দিয়েছে।

মাদরাসায় পড়াশুনা ও শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দাখিল হলো এসএসসির সমমানের। দাখিল মাদরাসাগুলোতে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়।

প্রধানত, ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কুরআন ও হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আর দাখিল মাদরাসা পরিচালনার জন্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের যেমন অনুমোদন দরকার তেমনি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের নিবন্ধিত শিক্ষকের তালিকা থেকেই শিক্ষক নিয়োগ করতে হয়।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের হিসাবে এখন দেশে অনুমোদিত দাখিল মাদরাসার সংখ্যা ছয় হাজার ৫৯৩টি। এছাড়াও স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী) সংখ্যা তিন হাজার চার ৪৩৩টি, আলিম মাদরাসার (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী) সংখ্যা এক হাজার ৫৫৮টি।

এর বাইরে ফাজিল (ডিগ্রি বা স্নাতক) ও কামিল মাদরাসার (মাস্টার্স/স্নাতকোত্তর) ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এ ছাড়াও অসংখ্য কওমি মাদরাসা রয়েছে দেশজুড়ে, যেগুলোর মধ্যে আছে নুরানি মক্তব, ফোরকানিয়া, কারিয়ানা কিংবা হাফেজি মাদরাসা।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশে যা বলা হয়েছে
সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির বৃহস্পতিবারের সভায় দাখিল পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের উত্তরপত্র মাদরাসার শিক্ষকদের পরিবর্তে অন্য ধারার শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন ‘বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, কারণ দেখা যাচ্ছে দাখিলে এসব বিষয়ে ভালো করা অনেক শিক্ষার্থী পরে এসব বিষয়ে ভালো করছে না। অর্থাৎ তাদের মধ্যে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে। অনেক সংসদ সদস্যই এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সে কারণে আলোচনা হয়েছে। মনে হচ্ছে, একই ধারার শিক্ষকরা সবাই ঠিকমতো শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, দাখিল পাস করেই উচ্চশিক্ষার দিকে যায় শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে চাকরির জন্য অনেক পরীক্ষায় তাদের অংশ নিতে হয়। এখানে সঠিক মূল্যায়ন হলে পরে আর তাদের সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই আমরা চাই তারা এসব বিষয়ে যথাযথ যোগ্যতা অর্জন করুক, সেভাবেই মূল্যায়ন হোক। কিন্তু এসব বিষয়ে যোগ্য শিক্ষকেরও সঙ্কট আছে।’

বিবিসি বাংলাকে হানিফ বলেন, ‘আবার অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত নম্বর দেয়ার প্রবণতাও আছে। অন্য ধারার শিক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন হলে এসব সমস্যা কেটে যাবে বলে মনে করেছে কমিটি।’

মাদরাসা শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া
মাদরাসা শিক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, শিক্ষক নিয়ে সঙ্কট গত কয়েক বছরে কেটে যাওয়ায় এসব বিষয়ের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য মাদরাসা শিক্ষকরাই যথেষ্ট।

নোয়াখালীর হাতিয়ার হাজী ফাজিল আহমদ দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ বিবিসিকে বলেন, ‘বিএসসি কিংবা এমএসসি পাস করা শিক্ষকরা গণিত বা ইংরেজির মতো বিষয়গুলো পড়ান এখন। এ বছর করোনার মধ্যেও আমরা অংক ও ইংরেজি বিষয়ে আলাদা করে পড়ানোর ব্যবস্থা করেছি শিক্ষার্থীদের। এখন শিক্ষকরাও মানসম্পন্ন। তাই অন্য ধারার শিক্ষকদের দিয়ে খাতা মূল্যায়নের আর দরকার আছে বলে মনে হয় না।’

হাতিয়ার ওই মাদরাসাটিতে প্রায় ১২ শ’ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে, যার মধ্যে নয় শ’ই ছাত্রী। মাদরাসাটিতে ভোকেশনাল কোর্সও খোলা হয়েছে, যাতে ড্রেস মেকিং ও জেনারেল ইলেকট্রিকাল সম্পর্কে পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা সদর উপজেলার রঘুরামপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক অলি আহমদ বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষার একটা স্বকীয়তা আছে, সেটা বিবেচনায় নিয়েই চিন্তা করা দরকার। এখন অনেক ভালো মানের শিক্ষক মাদরাসাগুলোতে বাংলা, ইংরেজি ও অংক পড়ান। আমাদের মাদরাসা থেকে পাস করে অনেক শিক্ষার্থী এসব বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। সরকারি চাকরিও করছে অনেকে। হয়তো কিছু শিক্ষক নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

এই মাদরাসা শিক্ষক আরো বলেন, সংসদীয় কমিটির উদ্বেগের বিষয়টি বোঝা যায়। কিন্তু এখনতো প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিকের মতোই দাখিলের শিক্ষকদের সরকারি নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে নিবন্ধিত হয়ে চাকরির আবেদন করতে হয়।

বিশেষজ্ঞ মতামত
মাদরাসা বিষয়ে অভিজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাদরাসায় বাংলা, গণিত ও ইংরেজি যারা পড়ান তারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা। তারা কিন্তু মাদরাসায় পড়া নন। কোনো কোনো মাদরাসায় হয়তো সুনির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে অন্য ধারার শিক্ষকদের দিয়ে এসব বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের চিন্তা করলে সেটি নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। কারণ, এসব শিক্ষকরা সাধারণ শিক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত।’

তিনি বলছিলেন, ‘এগুলো অপ্রয়োজনীয় চিন্তা। বরং ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ করে অধিকতর যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু গাছের আমটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশী মেয়ের সাফল্য ম্যাচের আগের দিন দল ঘোষণা বিসিবির ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় মধ্যস্থতার ঝুঁকি কেন নিলো আমিরাত মিরসরাইয়ে স্কুলশিক্ষিকার চিকিৎসায় শিক্ষা অফিসের সহযোগিতা মিয়ানমারের সামরিক জান্তাবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইইউর সখীপুরে খেলতে গিয়ে ট্রাকচাপায় শিশু নিহত অগ্নিসংযোগকারীদের প্রতি দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই : নানক চিকিৎসক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয় : হাইকোর্ট আফগানিস্তানে গাড়ি বোমার বিস্ফোরণে নিহত ৩ হেফাজতের তাণ্ডবে বিএনপি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত : সেতুমন্ত্রী

সকল