২৩ এপ্রিল ২০২১
`

এবার গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে

এবার গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে - ছবি : সংগৃহীত

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে গবেষণা জালিয়াতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পর তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবার তারা এ অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সাথে সাদেকা হালিম যে প্রবন্ধে ‘চৌর্যবৃত্তির আশ্রয়’ নিয়েছেন তার কয়েকটি কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ড. সাদেকা হালিমের প্রকাশিত কিছু প্রবন্ধের প্লেজারিজম ধরা পড়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো বাংলাদেশের শিক্ষায়তনিক পরিসরে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, বিভিন্ন পরিসরে সেগুলো সমালোচনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এতে দেশের অনেকেই উদ্বিগ্ন। অভিযোগপত্রে এই বিষয়টি সুরাহার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ বলেন, সাদেকা হালিমের গবেষণা চৌর্যবৃত্তির সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমাদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষকদের জন্য লজ্জার। একজন শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই বিষয়টি জানিয়েছি। তার কাছে দাবি করেছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনও জানি না। আমাকে ভিসি স্যার কিছু জানাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও খুলে দেখিনি। আমি এ বিষয়টি দেখবো।’

এর আগে গত গত ২৮ জানুয়ারি একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের পদাবনতি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুককেও একই শাস্তি দেওয়া হয়।

সামিয়া ও মারজানের শাস্তি নির্ধারণে গঠিত ট্রাইব্যুনাল দুজনের একটি করে ইনক্রিমেন্ট বাতিলের শাস্তি প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিন্ডিকেট সেই প্রস্তাব নাকচ করে দুজনকে পদাবনতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ১ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে করেন সামিয়া রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।’ তাই প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে আচার্য ও রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও আছেন বলে জানান তিনি।

সামিয়া রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ডিন অফিস থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আপনি ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান যৌথভাবে যে লেখাটি জমা দিয়েছেন সেটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটি শোনার পর আমি খুব অবাক হলাম। কারণ, আমি সাম্প্রতিক সময়ে ডিন অফিসে কোনো লেখা জমা দিইনি। এ সংক্রান্ত প্রমাণও আমার কাছে আছে।’

এ বিষয়কে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ এবং কিছু শিক্ষক জড়িত রয়েছেন বলে ইঙ্গিত করেন সামিয়া রহমান। তবে তাদের নাম না বলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে তা বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।



আরো সংবাদ