৩০ মে ২০২০
শীর্ষ ৭২ জন আলেমের বিবৃতি

কওমী মাদরাসাসমূহ দেওবন্দের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না

কওমী মাদরাসাসমূহ দেওবন্দের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না - ছবি : নয়া দিগন্ত

সরকারি অনুদান গ্রহণের বিরোধী করে বিবৃতি দিয়েছেন ৭২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম। তারা বলেছেন, কওমী মাদারাসা সমুহ ভারতের দেওবন্দের নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারেনা। তারা এই ধরণের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য মাদরাসা দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানান।

গণমধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শীর্ষ আলেমরা গত রোববার একটি পত্রিকায় কওমী আলেমদের সরকারি অনুদান সম্পর্কিত একটি সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না’। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

আলেমরা বলেন, যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলূম দেওবন্দের দ্বীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তারা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

কওমী আলেমরা আরো বলেন, কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বিবৃতিদাতা আলেমরা হলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (হাটহাজারী), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার), মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ), মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম (লক্ষীপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী (বরিশাল-মাহমূদিয়া), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।


আরো সংবাদ