৩১ মার্চ ২০২০

করোনা নিয়ে জবি ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের বিবৃতি

দেশে ও বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

শুক্রবার বিভাগের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা বিবৃতিটি নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় দেশবাসী ও মুসল্লিয়ানে কেরাম!

আসসালামু আলাইকুম,
আপনারা অবহিত আছেন যে, বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো মানবসভ্যতা আজ মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন। চীন, ইতালি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো বিশ্বপরিমণ্ডল থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে। পাকিস্থান, ভারত, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ জরুরী অবস্থা জারি করেছে। মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু সৌদি আরবের পবিত্র হারামাইনে সর্বশেষ জুমা ও মসজিদের জামাত আদায় সর্বসাধরণের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মিশর, কুয়েত, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র একই অবস্থা।

সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সবাই সচেতন না হলে কেবল সরকারের পক্ষে করোনা বিপর্যয় থেকে জাতিকে সুরক্ষা দেয়া অত্যন্ত দুরূহ হবে বলে আমরা মনে করি। আমাদের দেশ ও জাতিকে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি থেকে সচেতন করতে প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমরা এখন কঠিন সময় অতিক্রম করছি এবং সামনে আরো কঠিনতম সময় আসতে পারে। এমতাবস্থায় ইসলামী শরীআর উদ্দেশ্য (মাকাসিদ) অনুযায়ী জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্ম, বুদ্ধি-বিবেক, সম্পদ ও বংশের সুরক্ষা দিতে হবে। অভিজ্ঞমহল কর্তৃক এ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব (ভাইরাস ছড়ায় এ রকম বিষয়কে এড়িয়ে চলা) নিশ্চিতকরণ ও প্রাথমিক অত্যাবশ্যক করণীয় নির্ধারণ করার প্রেক্ষাপটে আমরা জাতিকে তা সর্বক্ষেত্রে অনুসরণের আহবান জানাই।

ইসলামে জুমার বিকল্প থাকায় সামাজিক দূরত্ব রেখে ধর্মীয় ইবাদত পালন সম্ভব। নামাজ বাসগৃহে জামাতবদ্ধ হয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় জরুরী কারণে মসজিদে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই দুঃসময় চলে যাবে এবং সুদিন আসবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই কঠোরতার পর প্রশ্বস্ততাও রয়েছে” (সূরা ইনশিরাহ:৫)। মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধব্বনিতে আবার মসজিদের সারিগুলো মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হবে ইনশাআল্লাহ। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) কাদা মাড়িয়ে মসজিদে না আসার অনুমতি দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) অনিবার্যকারণে বাসগৃহ ও অবস্থানস্থলে নামাজ পড়ার তাগিদ দিতে সাময়িকভাবে আজানের দুয়েকটি শব্দ পরিবর্তন করেছিলেন (বুখারী, ৬৬৬; মুসলিম,৬৯৭)। নবীজী (সা.) উতবান ইবন মালিক (রা.) এর বাড়িতে গিয়ে সুনির্দিষ্ট স্থানে নামাজ পড়ে এসেছেন যাতে তিনি ঐ স্থানে নামাজ পড়তে পারেন (বুখারী, ৪১৫)।

আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে হাদীস ও সীরাতের এসব ঘটনাবলি উপস্থাপনের জন্য প্রাজ্ঞ আলিম সমাজকে আহবান জানাই। জাতির এ দুর্যোগের মুহূর্তে প্রাজ্ঞ আলিম সমাজ বসে থাকতে পারে না। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আলিম সমাজের বার্তা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সর্বশেষ একনেকের সভায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এরূপ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আলিম সমাজ তাদের করণীয় নির্ধারণ করে জাতিকে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। প্রত্যাশা করি, এর ফলে জনগণ জুমা, মসজিদে জামাত, ধর্মীয় জনসমাগমসহ হাট-বাজার, খেলার মাঠ, ভ্রমণকেন্দ্র, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদি স্থানে সামাজিক দূরত্বকে নিশ্চিত করবে।

প্রিয় দেশবাসী! এমতাবস্থায় ইসলামের মহান শিক্ষা ও নৈতিকতা ধারণ করে আপনার পরিবার ও প্রতিবেশির প্রতি মনোযোগী হোন। অতি দ্রুত আল্লাহর রহমতের মাস রমজান এসে পড়বে। পরিস্থিতির কারণে কালোবাজারি ও মওজুদদারী বিষয়ে সংযমী হোন ও কাছের লোকদের সতর্ক করুন। আমরা মনে করি, এ ভয়ঙ্কর মহামারী থেকে একমাত্র মহান আল্লাহই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। তাই আল্লাহর নিকট চোখের পানি ঝরিয়ে তওবা, ক্ষমা প্রার্থনা, ধৈর্য্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য কামনার আহবান করছি। আপনাদের রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত দোয়া-ইস্তিগফার পড়ার অনুরোধ করছি।

বিবৃতিদাতা শিক্ষকগণ হলেন:

১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল অদুদ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৩. ড. মো. রইছ উদদীন
৪. ড. মোস্তফা কামাল, প্রক্টর, জবি ও সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৫. ড. মো. নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৬. মুহাম্মদ নূরুল্লাহ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৭. ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৮. তারেক বিন আতিক, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
৯. মুহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১০. ড. মোহাম্মদ রেজাউল হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১১. মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১২. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১৩. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১৪. আতিয়ার রহমান, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১৫. মোবারক হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি
১৬. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি


আরো সংবাদ