০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩০, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি
`
ই-জিপিতে অনিয়ম-দুর্নীতি

সরকারের বোধোদয় নেই

-

বাংলাদেশে সরকারি কার্যক্রমের একটি খাতও এমন পাওয়া যাবে না, যেটি দুর্নীতিমুক্ত। একসময় এটি সহনীয় মাত্রায় ছিল, যখন দেশে গণতন্ত্রের কিছুটা চর্চা ছিল। বর্তমান সরকারের সময় শাসনব্যবস্থায় চরম ক্ষয়ের মধ্যে দুর্নীতিরও পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে। ফলে যতগুলো উদ্যোগই নেয়া হয়েছে, সেখানে দুর্নীতি জোরালো হয়ে গেড়ে বসেছে। ভালো উদ্যোগকে কলুষিত করে একটি শ্রেণী নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এমনই একটি উদ্যোগ ছিল সরকারি ক্রয়-প্রক্রিয়ায় ই-জিপির প্রচলন। একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেনাকাটার স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা এর মূল লক্ষ্য ছিল। দেখা গেল, এক দশকে এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মাঠে মারা গেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এখানেও একই সিন্ডিকেট দাঁড়িয়ে গেছে। একটি গোষ্ঠী সব লুটেপুটে খাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের চার লাখ ৫৫ হাজার ৬৩৩টি ক্রয়াদেশ বিশ্লেষণ করেছে। ই-জিপিতে ৯৬ শতাংশের বেশি কেনাকাটা দুটো পদ্ধতিতে হয়। একটি হচ্ছে উন্মুক্ত দরপত্র, অন্যটি সীমিত দরপত্র পদ্ধতি। প্রথম পদ্ধতিতে ৫৩ শতাংশ ও দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ৪৩ শতাংশ কেনাকাটা হয়েছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক হলেও অন্যটিতে একেকবারে সীমিত প্রতিযোগিতা। সরকারের কেনাকাটার ৯৯ শতাংশ ২৫ কোটি টাকার নিচে। এখানে ৫ শতাংশ ঠিকাদার ৩০ শতাংশ কাজ পাচ্ছেন। বোঝা যায়, একটি সিন্ডিকেটের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই গ্রুপটির কাজ পাওয়ার হার বছর বছর আরো বাড়ছে।
অন্যদিকে বড় কেনাকাটাকে ই-জিপি সিস্টেমের বাইরে রাখা হয়েছে। একক দরপত্রে তারা কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। শত শত কোটি টাকার কাজ পাচ্ছে ঘুরেফিরে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গত ১২ বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫৫ শতাংশ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৬৩ শতাংশ কাজ একক দরপত্রে হয়েছে। সরকারের কিছু বিভাগের ক্ষেত্রে পুরো নিয়মের ব্যত্যয় দেখা গেল। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম-কানুন মানা তো দূরের কথা, তাদের সব ক্রয়াদেশ বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের উদাহরণ দেখা যায় না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, দরপত্র জমা ও কার্যাদেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাজার দখল একচেটিয়াকরণ অব্যাহত রয়েছে এবং বাস্তবে তার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে। যেখানে এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল বাজার দখলকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা।
ই-জিপির লক্ষ্য ছিল সরকারি ক্রয়-প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা। ঠিকাদারদের মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতির বিলোপ সাধন করা। আমাদের দেশে বহু মহতী উদ্যোগ দেখা গেছে। সেবাকে আরো সহজ ও কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব নেয়া হয়েছিল। প্রযুক্তির এই জয়জয়কার অবস্থার মধ্যে ই-জিপি একটি সময়োচিত পদক্ষেপ ছিল। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন থেকে স্পষ্টত অনুমান হচ্ছে, এই মহতী প্রকল্পটিকে অসাধু চক্র নিজেদের আখের গোছানোর অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছে; বরং আগের নিয়মে যতটা দুর্নীতি ও অনিয়ম করা যেত সেই সুযোগকে তারা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঝখানে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্য বেড়েছে, সরকারি অর্থের তছরুপের পরিমাণও বেড়েছে।
এ অবস্থা থেকে সরকারি কেনাকাটাকে উদ্ধার করতে হলে শুদ্ধি অভিযান দরকার। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন আশা করা যায় না যে, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে; বরং পুরো দুর্নীতিবাজচক্রের পোয়াবারো অবস্থার মধ্যে এই চক্রেরও সুদিন চলতেই থাকবে। তারপরও আমরা আশা করব, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। দুর্নীতিবাজ চক্রের হাত থেকে সরকারি কেনাকাটাকে মুক্ত করবে।


আরো সংবাদ



premium cement
সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে স্থবিরতা প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৩য় দিনে ১৫৫ জনের আপিল নাটোর কারাগারে অসুস্থ বিএনপি নেতার রামেক হাসপাতালে মৃত্যু ঝালকাঠিতে বাস-মাহিন্দ্র গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৫ ই-অরেঞ্জের প্রতারণা : ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নির্বাচনের নামে তামাশা পুরোদমে চলছে : রিজভী ডেঙ্গুতে আরো ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৩৭ গ্রামের ২ ওয়ার্কশপমিস্ত্রিসহ ৩ বন্ধু বানালেন হেলিকপ্টার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার মারুফের পরিচয়পত্র পেশ তেজগাঁওয়ে ক্রেনের আঘাতে ট্রেন লাইনচ্যুত, যোগাযোগ বন্ধ

সকল