২৮ মে ২০২৩, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ০৭ জিলকদ ১৪৪৪
`
যানজটে রাজধানী স্থবির

জনভোগান্তি দূর করতে হবে

-

যানজটে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে গোটা শহর যেন স্থবির হয়ে পড়ছে। কেউ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন কোম্পানিকেও গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসান। কারণ যে সময়ে তিনটি ট্রিপ দেয়া যেত সেই সময় চলে যাচ্ছে এক ট্রিপ দিতেই। ফলে যাত্রী বহন যেমন কমছে তেমনি বাড়ছে জ্বালানি খরচ। যানজটে গাড়িতে অনেকটাই বাড়তি জ্বালানি খরচ হয়।
রাজধানীর সড়কগুলোতে দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও নিরসনের কোনো উদ্যোগ কোনো তরফেই দেখা যাচ্ছে না। রমজানে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়ে উঠেছে। রোজাদারদের সড়কে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তা অবর্ণনীয়। যারা বাসে উঠতে পারেন না অথবা বাস এড়িয়ে সিএনজিতে করে বা বাইকে করে যাবেন সে উপায়ও নেই। এসব যানবাহনে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দাবি করছেন চালকরা। সিএনজি বা বাইকের মিটারে চলাচলও নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
রমজান শুরুর পর গত তিন-চার দিনে রাজধানীজুড়ে ভয়াবহ যানজট দেখা দিচ্ছে। যানজটে রীতিমতো নাকাল রাজধানীবাসী। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকছে হাজার হাজার যানবাহন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, পবিত্র রমজানে দ্রুত ঘরে ফিরে পরিবারের সাথে ইফতার করার সুযোগ পাচ্ছেন না অনেকে। গত দু’দিনে হাজার হাজার রোজাদারকে যানজটে পড়ে রাস্তায় একটু পানি বা অন্য কিছু দিয়ে কোনোরকমে ইফতার করতে হয়েছে। অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেন।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান, রামপুরা, বাড্ডা, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ভয়াবহ যানজট লেগে ছিল। দুপুরের পর থেকে কাকরাইল, পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা- এসব এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বাড্ডা ও গুলশান এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে ছিল যানবাহন। ওদিকে উত্তরা থেকে মহাখালী, পল্টন থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, মিরপুর থেকে ফার্মগেট, বিজয় সরণি থেকে মহাখালী, মহাখালী থেকে সাতরাস্তা ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মালিবাগ পর্যন্ত ছিল ভয়াবহ যানজট।
পথে পথে মানুষের এই জিল্লতি পোহানোর কথা ছিল না। বর্তমান সরকারের গত ১৪ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের তথা জনগণের অর্থ সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়েছে দু’টি খাতে। একটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, আরেকটি সড়ক যোগাযোগ। রাজধানীতে প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে চারগুণ বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় করে বানানো হয়েছে অসংখ্য বড় বড় ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল ইত্যাদি। সারা দেশে বানানো হয়েছে বিশাল বিশাল সেতু, টানেলওয়ে। কোনো প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি সরকার। নির্দিষ্ট মেয়াদের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি সময় নিয়েছে। এ জন্য মানুষকে বছরের পর বছর ধুলাবালু, বৃষ্টিতে জমে থাকা কাদাপানি, কাটা সড়কে গর্ত পেরিয়ে চলাচলের ভোগান্তি সইতে হয়েছে। এমনকি জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। কিন্তু জনগণ সেসব সহ্য করেছে প্রকল্প শেষে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এই আশায় ও আশ্বাসে। বিশেষ করে রাজধানীর প্রতিটি প্রকল্পের শুরুতে সরকার মানুষকে আশ্বাস দিয়েছে- এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পথে আর যানজট হবে না, যানজটে আটকে সময় নষ্ট হবে না, বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে না ইত্যাদি। এটি এখন প্রমাণিত, সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগ, সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রণালয় সফল হয়নি। কিন্তু জনগণকে দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া জরুরি।


আরো সংবাদ


premium cement
দ্বিতীয় দফায়ও এরদোগান এগিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে বাকশাল, বাইরে গণতন্ত্রের মোড়ক : জিএম কাদের তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা চলছে পদযাত্রার মাধ্যমে আগামীতে ঢাকা ঘেরাও করা হবে : ডা. মাজহারুল পবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ চেয়ে পোস্টারিংয়ের অভিযোগে অধ্যাপক বরখাস্ত সিরাজগঞ্জে নদীতে বিষাক্ত বর্জ্যে মাছচাষিদের কোটি টাকার ক্ষতি সরকার দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে আজমত উল্লার সাক্ষাৎ বেড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত সুইডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০তম ইউরোপিয়ান প্যালেস্টিনিয়ান্স কনফারেন্স বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন গাজীপুরের নবনির্বাচিত মেয়র

সকল