০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৮, ১৬ রজব ১৪৪৪
ads
`
একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিযুদ্ধ

সব কলেজ হোক মানসম্পন্ন

-

মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সবাই চায় ভালো একটি কলেজ বা মাদরাসায় পড়ালেখা করতে। পছন্দের তালিকায় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাখবে- এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ভালো কলেজ-মাদরাসায় ভর্তির আসন পূর্ণ হয়ে যাবে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দিয়ে। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়; সেগুলোতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পায়।
গত ২৮ নভেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৩৪ হাজার ১৮ জন, পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন এবং পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। এবার সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত জিপিএ ৫ পেয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। ফল মূল্যায়নে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে বেশি।
যদিও দেশে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে একাদশ শ্রেণীতে প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এ হিসাবে এবার একাদশ শ্রেণীতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ আসন খালি থাকবে। কিন্তু সারা দেশে ভালো মানের কলেজ-মাদরাসা রয়েছে হাতেগোনা। এসব কলেজে সারা দেশের মেধাবীরা ভর্তি হওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে আট হাজার ৮৬৪টি। এর মধ্যে মানসম্পন্ন কলেজের সংখ্যা মাত্র ১৭৫টি। এগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে প্রায় ৫০ হাজার।
ফলে দেখা যাচ্ছে, সাড়ে সাত লাখ আসন খালি থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কাক্সিক্ষত মানের কলেজে ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য হবে স্বল্পসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর। বাদবাকি শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করতে হয়। এতে করে অনেকে তাদের পছন্দমতো উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। এবার রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের অনেকের ভাগ্যে ভালো কলেজ-মাদরাসায় পড়ালেখার সুযোগ মিলবে না।
প্রশ্ন হলো, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে এত স্কুল-কলেজ থাকার পরও কেন মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি? এ প্রসঙ্গে বলা যায়, যেখানে-সেখানে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে সমাজে প্রভাবশালীদের এলাকায় প্রভাববলয় গড়ে তোলার মানসিকতা। একই সাথে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিশেষ করে সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান তারা নিজেদের মতো করে পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়, পরিচালনা কমিটি জাতীয় নীতিমালা হওয়ার আগে নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষক নিয়োগ দিতেন। সেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করাতে সক্ষম কি না তা বিবেচ্য ছিল না। স্মরণযোগ্য, এসব শিক্ষকের বেশির ভাগকেই টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হতো। এখন কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি পছন্দমতো শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলেও আগের জেরে সারা দেশের বেশির ভাগ কলেজে মানসম্পন্ন শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না।
আমরা মনে করি, সরকারের শিক্ষা বিভাগের উচিত- সারা দেশের কলেজগুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থায় উদ্যোগ নেয়া। যাতে সব শিক্ষার্থী মানসম্পন্ন শিক্ষা পায়। এতে একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তার অবসান হবে। এ ছাড়া কেউ যাতে খামখেয়ালিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারেন তা শক্ত হাতে রোধ করতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement
ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহত সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়াল আদানি গ্রুপের কাছ থেকে কেন বেশি দামে বিদ্যুৎ কারণ হচ্ছে, প্রশ্ন এমপি চুন্নুর সরকারের সমালোচনা কখনো রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না : জি এম কাদের ভূমিকম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৪ বছরের শিশু বেড়াতে এসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শিশুর মৃত্যু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩ লাখ প্রাণহানির শঙ্কা সূচক বাড়লেও লেনদেন ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে মুকিদুলে মুগ্ধতা ছড়াল কুমিল্লা হাফেজ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেবে মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা শেখ হাসিনাকে দেয়া হয়েছে

সকল