২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

রেলকে জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচান

-

রেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সব ইতিবাচক খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে দ্রুতগতির ট্রেন সাশ্রয়ী যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে। আরামদায়ক ও উপভোগ্য করার জন্য সারা বিশ্বে রেল যোগাযোগ নিয়মিত যোগাযোগের বাইরে পর্যটনেও ভালো ভূমিকা রাখছে। সড়ক ও আকাশপথের সহজ বিকল্প হচ্ছে রেল। সেই সময় আমাদের দেশে রেল নিয়ে সব মন্দ খবর। সরকারের এ বিভাগটি শুধুই যেন একশ্রেণীর মানুষের দুর্নীতির জন্য রয়েছে।
তিন মেয়াদে একটানা থাকা এই সরকার এ খাত লাভজনক করা দূরে থাক, এর লোকসান বাড়িয়ে চলেছে। সেই লোকসানের ওপর বাড়তি হিসেবে জমা হচ্ছে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি। সম্ভবত সরকার এ খাতে প্রথম যখন বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছিল তখন এটি কালো বিড়াল নামে কুখ্যাতি পায়। সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী আমলা আশীর্বাদপুষ্টদের কাউকেই এ জন্য সরকার জবাবদিহির আওতায় আনেনি। একজন আমলাকে সততার পরিচয় দিতে গিয়ে এ খাত থেকে চাকরি হারাতে দেখা গেছে। রেলপথে ভোগান্তি ও দুর্বল সেবার কোনো উন্নতি না করেই এসব বহুল দুর্নীতির ঋণ সাধারণ মানুষের ঘাড়ের উপর উঠবে। তার আগে থেকেই এই খাত টিকিট কালোবাজারি ও নিয়োগবাণিজ্যের জন্য কলঙ্কিত হয়ে আছে। এ দুটো সমস্যার এখনো সুরাহা করা যায়নি।


অনলাইনে টিকিট কিনে জালিয়াতির শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তিনি এককভাবে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাকে সরকারি লোকেরা শেষ পর্যন্ত কিছু আশ্বাসবাণী শুনিয়ে তার ক্ষোভ প্রশমিত করেছেন। টিকিট প্রাপ্তির আজো ভোগান্তি বিলোপ হয়নি। আর নিয়োগবাণিজ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো সব রয়ে গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের এতে বিভিন্ন সময় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ধরনের একটি নিয়োগ নিয়ে কিভাবে ভেতরের কর্মকর্তারা বাণিজ্য করছিলেন গত আগস্টে দুর্নীতি কমিশনের করা একটি মামলায় স্পষ্ট বোঝা যায়। মামলার আর্জিতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসাধু অভিপ্রায়ে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, সদস্য ও অনুমোদনকারী হিসেবে ন্যস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও পোষ্য কোটার প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ দেখিয়ে উক্ত কোটায় পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। নিজেদের প্রার্থীদের চাকরি দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিভাগীয় কোটা, জেলা কোটাসহ অন্যান্য বিধি তারা ভঙ্গ করেছেন। এটি ছিল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮৫ সিপাহি নিয়োগ। তাদের মতে, এ অন্যায় কর্মটি করেছেন রেলওয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপকসহ নিয়োগ কমিটির অন্য সবাই মিলে। এখানে একটি কথা বলে নেয়া ভালো; বর্তমান সরকার কোটাপ্রথা নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী। মেধা যোগ্যতার বিষয়টি তাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে কারণে হয়তো দুদক এ দুর্নীতি নিয়ে মামলা দায়েরে উৎসাহী হয়েছে। বিগত সময়ে নিয়োগ নিয়ে এ খাতে আরো বড় দুর্নীতি হয়েছে। সেগুলোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানা যায় না।


সর্বশেষ আমরা দেখতে পেলাম একটি সহযোগী দৈনিক জানাচ্ছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে ডিও লেটার দিয়েছেন স্বয়ং রেলমন্ত্রী। করোনা প্রতিরোধসামগ্রী ক্রয়ে ও রেলে ইঞ্জিন ক্রয়ে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছিল তার বিরুদ্ধে। তখন তাকে লোক দেখানো সতর্ক করা হয়েছিল। এখন তাকেই রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) বানানোর জন্য যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। তিনি রেলের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী।
সরকারি প্রত্যেকটি বিভাগে দুর্নীতিবাজদের জয় জয়কার। রেলওয়ে তার বাইরে কিছু নয়। তবে আপসোসের বিষয় হচ্ছে, রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে এমন একটি সময় আমরা কালো বিড়ালদের হাতে তুলে দিচ্ছি যখন আমাদের আশপাশের দেশেও এর উন্নতি হচ্ছে। সময় এখন এমন যাচ্ছে এ ক্ষয় রোধ করার মতো নয়। সার্বিক এক অসুস্থ পরিস্থিতির মধ্যে দেশ রয়েছে। এ থেকে উত্তরণে দরকার জবাবদিহিতা। তাহলেই কেবল দুর্নীতিবাজদের রাশ টেনে ধরা যাবে, রেলসহ সরকারের প্রত্যেকটি বিভাগকে জনগণের কল্যাণে নিযুক্ত করা যাবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement