০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
মিরসরাইয়ে মহাসড়কে মানুষের দুর্ভোগ

কর্তৃপক্ষ নজর দেবে কি?

-

বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যস্ত ও বৃহত্তম শিল্পাঞ্চলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশে মিরসরাই মহাসড়কে অনিয়মই যেন এখন নিয়ম। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নানা স্থানে পণ্য পরিবহনের একমাত্র রুটটিতে গাড়ির চাপ অনেক বেড়ে যাওয়ায় একে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে; কিন্তু আজো তার পরিপূর্ণ সুফল মিলেনি; বরং এই উপজেলায় দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটারজুড়ে চলছে চরম নৈরাজ্য-অনিয়ম। মহাসড়কে ধুমঘাট থেকে বড় দারোগাহাট অবধি বিভিন্ন অনিয়ম হলেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ লক্ষগোচর নয়।
সম্প্রতি নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই মহাসড়কে উল্টোপথে যানবাহন চলা, যেখানে সেখানে যাত্রীদের ওঠানামা করা, দূরপাল্লার বাসের মাল বণ্টন, পার্কিং করে রাস্তা জবরদখল, যাত্রীছাউনিতে যানের স্ট্যান্ড ও তিন চাকার অবৈধ যানবাহন চলায় মহাসড়ক চরম দুর্ভোগের হেতু হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মহাসড়ক দখল করে এবং তা ঘেঁষে রাখা হয়েছে ইট, বালু, কংক্রিট, গাছের টুকরো ইত্যাদি। ফলে প্রতিনিয়ত মহাসড়ক ধুলাবালুতে ঢেকে থাকে। আবার সামান্য বৃষ্টিতেই তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। সর্বাধিক বিপজ্জনক হচ্ছে- ধারালো পণ্য, স্ক্র্যাপ লোহা গাড়িতে পরিবহন কিংবা এগুলো ঢেকে কিংবা কনটেইনারে বহনের কথা থাকলেও এটি মানা হচ্ছে না। এতে ঝাঁকুনির কারণে গাড়ির ধারালো জিনিস মহাসড়কে পড়ে নানাভাবে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তখন মহাসড়কের বিভিন্ন যানের চাকা ছিদ্র হয়ে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, বারইয়ারহাট পৌর এলাকাতে যেখানে সেখানে যানবাহনের পার্কিং এবং যাত্রী তোলা বা নামার হিড়িক। ঠাকুরদীঘি, মিঠাছড়া, সুফিয়া সড়ক, চিনকি আস্তানা ও বড়তাকিয়ায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো- উল্টো পথ ধরে যান চলাচল। হাদিফকিরহাট, নিজামপুর ও সুফিয়া সড়ক দখল করে বালু রাখা হচ্ছে। বারইয়ারহাট উত্তর বাজারে গাছের দখলে গোটা রাস্তা।
উল্টো পথে আসা অনেক চালক স্বীকার করেছেন, ‘এটি ঠিক নয়’। তবে কয়েক কিলোমিটার দূরে ইউটার্ন থাকায় তারা বাধ্য হয়ে তা করছেন বলে জানিয়েছেন। জনৈক মোটরবাইক আরোহী বলেছেন, ‘মহাসড়কে লোকাল যানবাহন যত্রতত্র হঠাৎ করে যাত্রীদের তোলা-নামানোয় দুর্ঘটনাও ঘটছে। বেশির ভাগ যানের সিগনাল লাইট নেই। তাই সামনের গাড়ির গতিবিধি বুঝতে না পেরে অনেকে দুর্ঘটনায় ক্ষতির শিকার।’ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের টহলদারি রয়েছে দিন-রাত এবং অভিযান চলছে নিয়মিত। অনিয়ম করায় গাড়ি আটকে মামলাও হচ্ছে; কিন্তু চালকরা সচেতন না হওয়ায় অনিয়ম চলছেই। উল্লেখ্য, মহাসড়ক দখলের বিষয় দেখা সওজের দায়িত্ব। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ সব বিষয়ে নজরদারির জন্য আমরা জোর দাবি জানাই।


আরো সংবাদ


premium cement