২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
রাজধানীর অনেক এলাকায় পানির সঙ্কট

ওয়াসায় জানিয়েও কাজ হচ্ছে না

-

দেশে শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। নগরজীবনে তাদের পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হয়; বিশেষ করে পরিষেবা পেতে। বাস্তবে অর্থ দিয়েও কাক্সিক্ষত সেবা মেলে না। বিশেষ করে রাজধানীর বাসিন্দাদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। দীর্ঘ দিন ধরে নাগরিক পরিষেবার মান নিয়ে ঢাকাবাসীর প্রশ্ন থাকলেও সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়বোধ করে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তবে পরিষেবার মান বাড়াতে না পারলেও দাম বৃদ্ধিতে আলস্য নেই সরকারের সেবা সংস্থাগুলোর। সমন্বয়ের অজুহাতে দফায় দফায় চলে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয় পানি সরবরাহ করতে না পারলেও বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে দাম বাড়াতে আলস্য নেই ঢাকা ওয়াসার।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সঙ্কটে কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং দিয়ে তা মোকাবেলার কৌশল নিয়েছে। এ থেকে ঢাকাও বাদ পড়েনি। শুধু বিদ্যুতের দফায় দফায় লোডশেডিংই নয়; ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সঙ্কট। ঢাকার বহু এলাকায় দিনে মাত্র দু-একবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তা দিয়ে দৈনন্দিন সব কাজ সম্পন্ন করা যায় না। অবস্থা এমন যে, বালতি নিয়ে এ বাসা ও বাসা ঘুরেও কোথাও পানি মিলছে না। ফলে ভ্যাপসা গরমে পানির অভাবে নিয়মিত গোসল করতে পারছেন না ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা। রান্না, খাওয়া, গোসল, বাথরুম- সব মিলিয়ে পানি সঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সব এলাকাবাসী। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘সায়েদাবাদ, কুড়িল বিশ্বরোড, ভাটারা নূরের চালা, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল ডিআইটি, কালাচাঁদপুর, মিরপুর, আগারগাঁও, রায়েরবাজারসহ অনেক স্থানে গত কয়েক দিন ধরে পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সব এলাকার বাসিন্দা। পানি সঙ্কটে এসব স্থানে ওয়াসার এটিএম বুথে ভিড় বেড়েছে। পাম্পে গিয়ে লোকজন হাঁড়ি-কলস নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করছেন। ঢাকা ওয়াসার দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সঙ্কটের কারণ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া; একই সাথে, বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পাশাপাশি ওয়াসার বেশ ক’টি পাম্প বিকল হয়ে আছে। ফলে কিছু এলাকায় পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।’
ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানির চাহিদা ২৬৫ কোটি লিটার। এর ৬৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভের পানি থেকে। বর্তমানে পানির স্তর বেশ নিচে নেমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার ফুট নিচ থেকে পানি তুলতে হচ্ছে ওয়াসাকে। ভূগর্ভের স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কিছু এলাকায় পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকায় আট শতাধিকের মধ্যে শতাধিক পাম্পে গভীরে পাইপ বসাচ্ছে সংস্থাটি। ঢাকা ওয়াসার প্রত্যাশা, বোরিং শেষ হলে সমস্যার সমাধান হবে অনেকটা। আর গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার চালু হলে ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরতা ৩০ শতাংশ কমে আসবে।
সংস্থাটির তথ্য ঠিক থাকলেও রাজধানীতে সহসাই পানির সঙ্কট কাটছে না। ঠিকমতো পানি না পেয়ে বারবার ওয়াসার আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।
বাড়ির মালিকরা ওয়াসার গাড়ি থেকে অতিরিক্ত দামে কিনে নিজেরা ও ভাড়াটেদের পানির ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প হওয়ায় ওই পানি দিনে একবার ছাড়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে গোসল, বাথরুমসহ অন্যান্য কাজ সারতে হয়।
লক্ষণীয়, যেসব এলাকায় পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে সেগুলো রাজধানীর অভিজাত এলাকা নয়। তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক- এটি ধনী-গরিবের বৈষম্য। আমরা মনে করি, রাজধানীর পানি সমস্যা সমাধানে ঢাকা ওয়াসা যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা শেষ হতে সময় লাগবে। সঙ্কটকালে রেশনিং করে সব জায়গায় পানি সরবরাহ করলে উল্লিøখিত এলাকায় জনদুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে আসবে।


আরো সংবাদ


premium cement