০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯, ৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
গণপরিবহণে আবারো দলবদ্ধ ধর্ষণ

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই

-

আমাদের দেশে ধর্ষণ একেবারে সাধারণ একটি অপরাধ হয়ে গেছে। এখন চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা খুব একটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। মানুষের মনে কোনো জাগরণ তোলে না। যে কারণে চার দিনের মাথায় বাসে দু’টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারল। দু’টি ঘটনা সামাজিকভাবে জঘন্য অপরাধের সাধারণ বিষয় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করছে। একটি ঘটনায় বাড়তি হিসেবে করা হয়েছে গণডাকাতি। অবশ্য ডাকাতদল প্রথমে বাসে ডাকাতির ফন্দি আঁটে, পরে এক নারী যাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। অপরাধের প্রতি আমাদের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি এখন আমূল পালটে গেছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও অপরাধীদের ছাড় দেয়া হচ্ছে। প্রথমে দলীয় লোকেরা ছাড় পেয়েছে। পরে এটি দোষীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ফলে যেকোনো অপরাধ এখন অনায়াসে সংঘটিত হচ্ছে।
২ আগস্ট সংঘটিত প্রথম ঘটনায় দেখা যায়- বাসে ডাকাতি করা কত সহজ। মধ্যরাতে কুষ্টিয়া থেকে ২৪-২৫ যাত্রীসহ একটি বাস সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে যাত্রীবেশে কয়েকজন ডাকাত তাতে ওঠে। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সবাইকে আটকে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা যাত্রীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে সাথে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অলঙ্কার সর্বস্ব লুটে নেয়। তারা শুধু ডাকাতি করেনি; এক নারী যাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। ডাকাতরা তিন ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। এভাবে একটি বাস আটকে ডাকাতি ও ধর্ষণ কল্পনার অতীত। এতে বোঝা যায়, তারা বিচ্ছিন্ন ডাকাতদল নয়। আশপাশে তাদের শক্ত অবস্থান ও সমর্থন রয়েছে। যে কারণে উপর্যুপরি অপরাধ করতে কোনো শঙ্কা বা ভয় পায়নি।
অন্য দিকে, ৬ আগস্ট দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা বাসের স্টাফরা ঠাণ্ডা মাথায় করেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন নওগাঁ থেকে আসা এক দম্পতি। গাড়িতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছালে তাকওয়া পরিবহনের আরো তিন কর্মী বাসে ওঠে। মহাসড়কের হোতাপাড়ায় এলে বাসের বাকি যাত্রী নেমে যান। বাসে আগে থেকে পরিবহনের দুই কর্মী ছিল। এবার চলন্ত বাস থেকে পরিবহনকর্মীরা স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর পাঁচজন মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। সুবিধামতো জায়গায় তারা ওই নারীকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, পরিবহনকর্মীরা বাড়তি হিসেবে লুটের ঘটনাও ঘটাল।
দু’টি ঘটনায় পুলিশের দাবি, অপরাধীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুরুতর বিষয় হলো অপরাধীচক্রের ভয় ও শঙ্কা না থাকা। এর কারণ কি বিচারহীনতার সংস্কৃতি নয়? কারণ, একটি বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের চার দিনের মাথায় আরেকটিতে একই ধরনের ধর্ষণের ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারল, এ প্রশ্ন এসে যায়। পুলিশ অনেকসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে অপরাধীদের ধরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি শাস্তি পাচ্ছে? যখন দেখা যায় অপরাধীরা ক্ষমতার আশ্রয়ে কিংবা বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন ফাঁকফোকর গলিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের ভয়ডর না থাকা স্বাভাবিক। সড়ক ব্যবস্থাপনার সাথে এর একটি সম্পর্ক রয়েছে।
সড়ক আন্দোলনে দাবি দাওয়ার মধ্যে চালক ও কর্মীদের বিচার করা এবং প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি ছিল। তা বাস্তবায়ন হলে তারা এভাবে দল বেঁধে ধর্ষণের সাহস পেত না কিংবা পাশবিকতা চরিতার্থ করার নেশায় মত্ত হতো না। ডাকাতির ঘটনাও এত সহজে ঘটাতে সাহজ পেত না। আমরা আশা করব, সড়কে এমন উপর্যুপরি ভয়াবহ অপরাধ সংঘটনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরে সরকার অন্তত এবার শক্ত অবস্থান নেবে।


আরো সংবাদ


premium cement