২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯, ৩০ সফর ১৪৪৪ হিজরি
`
আশ্রয়ণের কয়েক শ’ বাসিন্দার আতঙ্ক

বালুখোরদের মহাতাণ্ডব

-

নয়া দিগন্তের ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতার পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুরে অবৈধভাবে বালু তোলার দরুন প্রমত্তা ফেনী নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েক শ’ বাসিন্দার। এই প্রকল্প ঝুঁকিহীন করতে ২০২১-২২ অর্থবছরে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুরোধে তিলকের চর বালুমহাল ইজারা দেয়া হয়নি। তবে এখান থেকে প্রচুর বালু উত্তোলন করছে বালুদুর্বৃত্তরা। ফলে পুরো এলাকা এখন হুমকির মুখে। গত সোমবার সকালে এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিরোধে বালুদস্যু দলের হোতারা পালিয়ে যায়। তখন তাদের একটি ড্রেজার ও চালকসমেত একটি নৌকা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কয়েক দশক আগে স্থানীয় জয়চাঁদপুর ও সোনাপুর গ্রামের তিলকের চরে কয়েক দফায়, সরকারি স্থানে ছিন্নমূল ৪৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এখন সে আশ্রয়ণ প্রকল্পে তিন শতাধিক লোক থাকে। ফেনী নদীর তীরে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে বারবার অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীটি প্রকল্পের প্রায় ২০০ গজের ভেতরে চলে এসেছে। ভাঙন থেকে বাঁচাতে উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার সোহেলের পক্ষে কয়েক দফা সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনীর জেলা প্রশাসন তিলকের চর বালুমহাল আর ইজারা দেয়নি। তবে সরকারের ইজারা ছাড়াই ফেনী নদীর পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বেআইনিভাবে তীরবর্তী ফসলি জমিতে ৮০-১০০ ফুট গভীর করে বালু তোলা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ফেনীর ডিসি ও এসপি, বিজিবির স্থানীয় কমান্ডিং অফিসার ও ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট এলাকার কামরুল ও রাসেল এবং ছাগলনাইয়ার হারুনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফেনী নদীর আশ্রয়ণ প্রকল্প ছাড়াও এলাকাবাসীকে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বালুখোররা হুমকি দিয়েছে মর্মে অভিযোগ। অনেকে বলেছেন, বালু তোলার লোকজন দলবেঁধে এসে রাত-দিন বালু নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের দেয়া ভিটা হারিয়ে কোথায় ঠাঁই নেবেন, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর পক্ষে ওয়ার্ড মেম্বার জানালেন, কোনো প্রকার ইজারা ছাড়াই বালু ব্যবসায়ীরা ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীরে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বালু তুলে নিচ্ছে। ছাগলনাইয়ার ইউএনও বলেছেন, ‘আশ্রয়ণ এলাকায় বালু তুলে যারা ঝুঁকির সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ তবে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে জানা যায়নি। ছাগলনাইয়া উপজেলার চেয়ারম্যান সোহেল বলেছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষার জন্য এলাকার মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আমরা আশা করি, অবৈধ বালুখোরদের প্রভাব ও দৌরাত্ম্য রোধে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে; তা ফেনী নদীসহ দেশের সর্বত্রই। অন্যথায় নদ-নদীর ভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যায় জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।


আরো সংবাদ


premium cement