০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

শ্রমিক সঙ্কট অবিলম্বে দূর করুন

-

নয়া দিগন্তের পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতার খবর, শ্রুমিক সঙ্কটে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান। একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকও প্রায় একই সময় দু’বার ছাপিয়েছে প্রায় এ ধরনের বার্তা। সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা থেকে এসব সংবাদ এসেছে তাদের নিজস্ব সূত্রে। বৈরী হাওয়া বর্তমান পরিস্থিতির এক কারণ বলে উল্লেখ করা হলেও এ খবরে বলা হয় যে, কৃষক এ সঙ্কটে দিশেহারা। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে হাওর এলাকায় কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট পুরনো। প্রধানত দেশের উত্তরাঞ্চলের শ্রমিক এনে সে ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা চলে। এবার খোদ উত্তরবঙ্গেই ধান কাটার লোকের অভাব।
নয়া দিগন্তের পূর্বধলা সংবাদদাতার বরাতে ছাপা হয়েছে, মাঠে সোনালি রঙের পাকা বোরো ধান নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ফলন ভালো হলেও রোগে ও পোকায় ফসল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। দূর থেকে দেখে মনে হয়, ধান কাটার সময় হয়েছে; আসলে তা নয়। ছত্রাক আর মাজরা পোকার আক্রমণের ফলে ক্ষেতের এ অবস্থা।
জানা যায়, রোগটি প্রধানত ব্রি-২৮ জাতের ধানে বেশি আক্রমণ করছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, নেত্রকোনার পূর্বধলায় চলতি বছর ২১ হাজার ৭৮০ হেক্টর বোরো ধানের আবাদের টার্গেট। এর প্রায় ২৩ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সময়মতো পরামর্শ না দেয়া, বারবার বালাইনাশকেও কাজ না হওয়া, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দিনের পর দিন বিরামহীন বর্ষণ, বিশেষত বৃষ্টির ফলে ফসল কাটা ও মাড়াই না হওয়া, শ্রমিকের সঙ্কট ইত্যাদি কারণে কষ্টের ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না শ্রমিকদের ডাবল মজুরি দিয়েও। সদর এলাকার জনৈক কৃষক বলেছেন, ‘৮১ জাতের ধানে সার এবং ওষুধ ঠিকমতোই দিয়েছি। ধানের ভালো ফলন। তবুও চিটা হয়ে গেছে অধিকাংশ ধান।’ দিনভর বৃষ্টির মধ্যে ধান মাঠেই পড়ে থাকায় কৃষকরা শঙ্কিত। রোদ না থাকায় ভেজা ধান মাড়াই করে ঘরে উঠালেও সে ধানে চারা হতে শুরু করেছে। আর মাঠের ধান অবিলম্বে কাটা না গেলে সব ধানই নষ্ট হয়ে যাবে। তদুপরি, অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড় হলে ঘাস পচে যায়। ফলে গোখাদ্যের তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়। এবার অসময়ে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তাই চাষিদের উদ্বেগ অনেক বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, এক বিঘার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিলেও ধান কাটার মজুর মিলছে না। তাই ধান পাকলেও ক্ষেতেই পড়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে নেত্রকোনা জেলাতে ধান কাটার সমস্যা বাড়ছে প্রত্যেক বছরই। এর সাথে বাড়ছে কাটার পারিশ্রমিকের পরিমাণও। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কঠিন। এ দিকে ধানক্ষেত পানিতে ডুবে যাচ্ছে। একজন বললেন, তিন বিঘার ক্ষেতে বোরো পেকে ধান ঝরে পড়ছে। শ্রমিকরা এখন বিঘাপ্রতি ধান কাটা বাবদ চাচ্ছেন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। তদুপরি থাকাখাওয়া মালিকদের। এত খরচ করতে হলে তাদের লোকসান গুনতে হবে বলে তারা অভিযোগ করেন। আরেকজন জানান, ‘এবার ধানের ফলন মন্দ না হলেও শ্রমিকের অভাবে এবং বৃষ্টির ফলে ধান কাটা ও মাড়াই বেশ কঠিন হচ্ছে।’ ধানের মণ ৬০০ টাকার মতো। কৃষি বিভাগের দাবি, ‘কৃষকদের সাথে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। যাদের অসুবিধা রয়েছে, মেশিনে তাদের ধান কাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যত শিগগির ধান কাটা যায়, ততই ভালো।’ ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে তারাও স্বীকার করছেন।
যা হোক, প্রধানত কৃষিশ্রমিক পর্যাপ্ত হলে তাদের মজুরি কমে আসবে। তাই অবিলম্বে এ সঙ্কটের সুরাহা জরুরি। অন্যথায়, কৃষকদের ‘মাথায় হাত’ দিতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement