২০ মে ২০২২, ০৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯,
`
ইটভাটার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা

নিত্য অঘটন রোধ করুন

-

ঝিনাইদহ-কালিগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেশির ভাগ অংশের পাকা রাস্তায় ইটভাটার জন্য পরিবহনকৃত ধানের মাটি ছড়িয়ে থাকে। একটি সহযোগী দৈনিকের সচিত্র সংবাদে আরো জানানো হয়েছে, এটা শীতকালে বা অসময়ে বর্ষণের ফলে পানিতে মিশে পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত বয়ে আনছে বিপদ, ঘটাচ্ছে অহরহ দুর্ঘটনা। ফলে অনেকেই গুরুতর আহত বা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। এমনকি অনেকসময়ে যানবাহনের ক্ষতিও কম নয়। কেননা ভিজে কাদামাটিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সাধারণত মোটরবাইক-সমেত বিভিন্ন যন্ত্রযান প্রায় প্রত্যহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে চলতে গিয়ে। জানানো হয়েছে, এ সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও এর প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেয়া ‘রহস্যজনক’।
এ দিকে গত ১১ জানুয়ারি রাতে এলাকাতে দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উল্লিøখিত এলাকার বেশির ভাগ গ্রামে পাকা রাস্তাও চলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। পিচ্ছিল এসব সড়ক অতীব বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের মারণফাঁদতুল্য রাস্তায় রেকর্ডসংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বর্ষণের পরে সরেজমিন আড়পাড়া ভায়া গাজির বাজার, কালিগঞ্জ-জীবননগর, কালিগঞ্জ-নলডাঙ্গা, বারোবাজার-চৌগাছাসহ প্রায় ১০টি স্থানীয় সড়কের পাশাপাশি যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দেখা যায়, এগুলো পানি ও কাদায় সয়লাব। এতে এসব রাস্তা জন ও যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ইটভাটার নিকটবর্তী রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ। রাস্তার উপর জমে থাকা কাদাপানি যানবাহনের চাকায় লেগে গোটা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছিল। কোথাও বা পিচ্ছিল রাস্তার অবস্থা চষা জমির মতো।
একজন চালক বলেছেন, ‘গ্রাম এলাকায় বেশির ভাগ সড়কই এখন পিচনির্মিত বা পাকা। এসব রাস্তার ধারেই ইটের ভাটা চালু করা হয়েছে। ভাটার মাটি গাড়ি করে নেয়ার সময়ে সড়কে মাটির ঢেলা পড়ে পিচে লেগে থাকে। সামান্য বর্ষণেই তখন কাদাপানিতে একাকার এবং সড়ক হয়ে যায় অনুপযুক্ত। ফলে প্রত্যহ ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। তাই গাড়ি চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়ে। তবুও চাকা পিছলে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির জনৈক প্রতিনিধি বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তাদের যাতায়াতের একক মাধ্যম মোটরসাইকেল; কিন্তু গ্রামাঞ্চলের সড়কের উপর পড়ে গেছে মাটির স্তর। বৃষ্টির পানি এতে পড়লে অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। এবার গত ১১ ও ১২ জানুয়ারির বর্ষণের পর নলডাঙ্গা সড়কে বাইকে যাওয়ার সময় ইটভাটার সামনে কাদায় পিছলে পড়ে নিজেই আঘাত পাই। একই স্থানে একই ধরনের যানে, একইভাবে দুর্ঘটনার দরুন আমার তিন সহকর্মীও আহত হলেন মারাত্মকভাবে। ওই সময়ে যারাই সে সড়কে মোটরবাইক ব্যবহার করেছেন, তাদের বেশির ভাগই একই স্থানে পড়ে গিয়ে আহত হন। তারা বেঁচে গেছেন কোনোমতে; তবে তাদের যানের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে।’ একজন শেয়ার রাইডার চালক জানালেন, শীত ম্যেসুমের শুরু থেকেই ভাটামালিক এবং বিক্রেতারা মাটি টানতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যান। এসব গাড়ির মাটি পড়ে পাকা রাস্তা হয়ে যায় কাঁচা রাস্তার মতো। আর এতে বৃষ্টি পড়লে রাস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ কারণে তখন কয়েক গুণ বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কেবল কাদা জমে গ্রামের রাস্তায় এখন মহাসড়কের তুলনায় অধিক দুর্ঘটনা হচ্ছে। কখনো কখনো কর্তৃপক্ষ মাঠে নামলেও অদৃশ্য কারণে তারা ক’দিন পরই ‘ঠাণ্ডা’ হয়ে যান আগের মতোই। ফলে মাটি ফেলার জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। কালিগঞ্জের ইউএনও বলেন, “মানুষের জন্যই মাটি। এ মাটি গাড়িতে নেয়ার সময় বাড়তি নজরদারি দরকার, যেন পাকা রাস্তায় জনগণের অসুবিধা না হয়। এবার অসময়ের বর্ষণে পাকা সড়কে কাদা জমার অনেক অভিযোগ পেয়েছি। বেশ কয়েকটি ইটভাটার মালিককে বলা হয়েছে এ বিষয়ে লক্ষ রাখতে। ‘দরকার হলে’ মানুষের কথা চিন্তা করে কঠোর হবো।”
প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার মনে করুক বা না করুক, জনস্বার্থে পাকা সড়কে দুর্ঘটনা রোধ করা জরুরি। এ জন্য কোনোভাবে সড়কগুলো যাতে পিচ্ছিল হয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথায় সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে। তাতে প্রাণহানি ঘটাও অসম্ভব নয়।


আরো সংবাদ


premium cement
ইউক্রেনের জন্য আরো সামরিক তহবিল যোগান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র রুশ-মার্কিন শীর্ষ জেনারেলদের ফোনালাপ : পেন্টাগন সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির আরো অবনতি আমরা ওবায়দুল কাদেরের কথার গুরুত্ব দেই না : মির্জা ফখরুল চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ২ পরীক্ষার্থী নিহত পুলিশের কব্জি বিচ্ছিন্ন : মূল আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার লালমোহনে ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন স্বামী-স্ত্রী-ভাই শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল শুরু সমকাম সমর্থনের ম্যাচ না খেলে প্রশংসায় ভাসছেন সেনিগালীয় ফুটবলার ৫-১১ বছরের শিশুদের ফাইজারের বুস্টার ডোজ দেয়ার আহ্বান সিডিসির করোনা আক্রান্ত ৭ লাখ, মৃত ২ সহস্রাধিক

সকল