১৬ মে ২০২২
`
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন আজ

শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হবে কি?

-

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে দেশে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে এই ইসির অধীনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিদেশী গণমাধ্যমে ‘নৈশভোটের’ তকমা পেয়েছে। আর সর্বশেষ, স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাঠের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ না থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এত কিছুর পরও বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। বরং তাদের মুখে নির্বাচন-উত্তর একই কথা শোনা যায়, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। বাস্তবে ঠিক আগের রকিব এবং আর কয়েক দিন পর বিদায় হবে যে হুদা কমিশন, তারা দেশের নির্বাচন-ব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। অবস্থাদৃষ্টে এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে এখন ভোট গ্রহণ প্রায় নির্বাসিত। দুঃখজনকভাবে ইদানীং গণতন্ত্র প্রশ্নে বাংলাদেশে যেকোনো নাগরিকের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- ভোট দিতে পারব তো?
২০১৪ সালে দেশের অন্যতম বড় দল ও মূল বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় এবং ২০১৮-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও যেভাবে ভোট হয়েছে, তাতে সংসদ কার্যত বিরোধী দলশূন্য হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র সঙ্কটাবস্থায়। মাঝে কয়েকটি সিটি নির্বাচন ও সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম হওয়ায় ওই সঙ্কট আরো তীব্রভাবে ঘনীভূত হয়। পরে স্থানীয় সরকার সংস্থার সর্বনিম্ন স্তরে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোয় সঙ্ঘাত-সংঘর্ষ, সন্ত্রাস, খুনোখুনিতে নির্বাচনের অন্তিম যাত্রা প্রায় সম্পন্ন। এসব নির্বাচনের ঘটনাপ্রবাহ সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সঙ্কীর্ণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলাদলির চক্রে পড়ে খাবি খাচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। রাজনীতি যদি দেশবাসীর সমষ্টিগত কল্যাণের বিষয় হয়, সে দিক বিচারেও সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতির চরিত্রহীন হয়ে পড়া স্পষ্ট। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে দেশের নির্বাচন-ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা না গেলে আমাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা বলা মুশকিল।
এই পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এক ব্যতিক্রম, যা স্থানীয় হয়েও জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ও ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর। ব্রিটিশ আমলে স্কটল্যান্ডের পাটবাণিজ্যের জন্য খ্যাত, শিল্পসমৃদ্ধ নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ নামে অভিহিত হয়। ১৮৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর পৌরসভা এবং ২০১১ সালে এর বর্ধিত এলাকা নিয়ে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়ে দেশের স্থানীয় সরকার সংস্থার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখে আসছে। তাই সব মিলিয়ে এই সিটি নির্বাচন দেশব্যাপীর দৃষ্টি আকর্ষণ করাই স্বাভাবিক। এর অন্যতম কারণ, শাসক দলের মেয়রপ্রার্থীর সাথে শত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও সমানতালে স্বতন্ত্র একজন মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়া। সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে। তবে রাজনীতিসচেতন নাগরিকরা আশাবাদী নন।
ঢাকার পরে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ। এই নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। এর কারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে ‘২৪ ঘণ্টা পরে ঘুঘু দেখানো’র হুমকি দিলেন; পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাদের বাসায় গিয়ে কার পক্ষে থাকতে হবে, সে সবক দিচ্ছে; তৈমূরের নির্বাচনী প্রচার সংগঠকদের ‘অজ্ঞাত’ পূর্ব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে- এসব কোনো বিবেচনাতেই ভালো লক্ষণ নয়।
নির্বাচনপূর্ব আলোচিত ঘটনা ছাপিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ নিয়ে আমরা নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি আহ্বান জানাই- এত কিছুর পরও নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ভোট দিতে পারেন।


আরো সংবাদ


premium cement