২৫ জানুয়ারি ২০২২
`
খুলনা মেডিক্যাল কলেজে হিমশিম খাওয়া

‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র কী অবস্থা?

-

‘৭ বছর কেটে গেলেও এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা আজো বাস্তবায়িত হয়নি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সময়ের ব্যবধানে প্রতিদিন রোগী বাড়লেও সেই ৫০০ শয্যা নিয়েই চলছে কার্যক্রম। বাড়েনি প্রয়োজনীয় শয্যা ও জনবল। আগের ২৫০ শয্যার জনবল দিয়েই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এটা হলো নয়া দিগন্তে খুলনা ব্যুরোর পাঠানো এক সচিত্র প্রতিবেদনের সর্বপ্রথম প্যারা। জানা যায়, ‘‘৩২ বছর আগে নগরীর বয়রা এলাকায় ‘খুলনা হাসপাতাল’ নামে এর যাত্রা শুরু। এখানে প্রথমে মাত্র ৩০টি শয্যা ছিল। পরে যথাক্রমে ১২৫ এবং ২৫০ শয্যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ’৯২ সালে মেডিক্যাল কলেজের সূচনা। ২০০৮ সালে এ হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ও তদানীন্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম খুলনায় এসে হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু তা ‘ঘোষণা’ হিসেবেই রয়ে গেছে আজ পর্যন্ত। এ দিকে খুলনা মেডিক্যাল হাসপাতালে রোগীর ভীষণ চাপ জরুরি ও বহির্বিভাগ উভয়টিতেই। মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি প্রভৃতি বিভাগে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বেশি রোগী রয়েছে। শয্যায় রোগীদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ার ফলে কয়েক শ’ রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। জানা গেছে, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ার পরও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সে মোতাবেক জনবলের পদায়ন করা হয়নি। আর শয্যা তো বাড়েইনি। অপর দিকে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা ছাড়াও বৃহত্তর ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ আর বৃহত্তর বরিশালের পিরোজপুরসমেত আশপাশের বিভিন্ন জেলার শত শত মানুষ এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। ৫০০ শয্যার হলে কী হবে, গড়ে প্রতিদিন এতে ভর্তি রোগী থাকছেন তার দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ যথেষ্ট শয্যা, চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসার উপকরণ বা সরঞ্জাম কোনোটাই এ হাসপাতালে নেই। সরেজমিন দেখা যায়, টিকিটের কাউন্টার, ডাক্তারের চেম্বার, হাসপাতালের লিফট, ভবনের বারান্দা থেকে শুরু করে এমনকি, বাথরুমের দরজা পর্যন্ত সব জায়গায় রোগী আর রোগী। শয্যা না পেয়ে কয়েক শ’ লোককে বারান্দায় পড়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। সে জায়গায় ফ্যান না থাকায় খুব গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে লম্বা লাইন রোগীদের। স্বল্প স্থানে এত রোগী থাকতে মহামারীর সময়েও জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হয় না। তদুপরি যোগ হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য আগত হাজারো মানুষের ঢল। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, শয্যার অভাবে মেঝে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসাসেবা লাভ করা যায় না। এভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার। খারাপ অবস্থা সত্ত্বেও রোগীরা সিট পান না এ হাসপাতালে। বিএমএ’র খুলনা শাখা সভাপতি বলেছেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পদ্মা নদী পার হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়া সহজ নয়। এ দিকে এখানকার হাসপাতালে কাঠামো থাকলেও জনবল থাকে না। আর জনবল যদি থাকে, তাহলে প্রযুক্তির অভাবÑ এ ধরনের অবস্থা।”
এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক স্বয়ং বলেন, ‘হাসপাতালের ৫০০ শয্যায় ১১ থেকে ১২ শ’ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তদুপরি, হাসপাতালে অধিকাংশ ডাক্তার নেই। অন্যান্য স্টাফের তো ৭০ শতাংশেরও অধিক পদ শূন্য। এত কম জনবল দিয়ে এত বেশি রোগীকে চিকিৎসা করতে গিয়ে আমাদের প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয়।’
খুলনা মহানগরীর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের যদি এ বেহাল দশা হয়ে থাকে, তাহলে দেশের মফস্বলে স্বাস্থ্যসেবার নামে কী অবস্থা, তা বলা নিষ্প্রয়োজন। এ দিকে দীর্ঘ দিন সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র প্রচারণা চালাচ্ছে, যার বাস্তবে অস্তিত্ব নেই। এমনিতেই করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, তথা চিকিৎসা সুবিধা কতখানি আছে, তা স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ সর্বত্র কার্যকর, পর্যাপ্ত ও গণবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।


আরো সংবাদ


premium cement