০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

-

লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জে তিস্তার শৌলমারি চর এলাকায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। এই প্রকল্পের স্থানে যাওয়া-আসার জন্য তিস্তা নদীর উপর ৫০ ফুট প্রস্থের একটি আড়াআড়ি রাস্তা এবং দু’টি বেইলি ব্রিজ নির্মিত হচ্ছে। অপর দিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কায় পড়েছে কৃষকসমাজ। দাবি করা হয়েছে, এলাকাটিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র্র স্থাপন পরিবেশের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। নয়া দিগন্তের পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা এক প্রতিবেদনে কথাগুলো জানিয়েছেন।
জানা যায়, যেখানে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে, সেই নদীচরে এতদিন ফলন হতো বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের; যেমন ধান, তরমুজ, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি। এসবের দ্বারাই সে জায়গার বেশির ভাগ চাষির আর্থিক অবস্থা উন্নত হয়েছে। তিস্তার এপারের অনেকেরও ভাগ্য বদলেছে একই কারণে। অথচ এসব ফসল যেখানে ফলত, সে জমিগুলো চরবাসী হারাতে যাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, ‘আমাদের ভুল বুঝিয়ে এ জমি লিখে নেয়া হয়েছে স্বল্পমূল্যে।’ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বায়নাসূত্রের মালিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথামতো যারা জমি দেননি, তাদের জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে দেয়া হয়নি এবার। নানাভাবে কোম্পানিটি ২০০ একর দখলে এনে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। কয়েক ব্যক্তি নিজের ভূমি রক্ষার্থে বাধা দিয়ে উল্টো মামলার আসামি হয়েছেন।
আরো জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদন উপেক্ষাপূর্বক চরের উপর দিয়ে একটি রাস্তা করা হয়েছে প্রকল্প এলাকাতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট কত জমি লাগবে, তা জানা যায়নি। পূর্বোক্ত প্রতিষ্ঠানটি ১২০ একর জমি নিয়েছে বলে দাবি করলেও লোকজনের বক্তব্য, তারা ২০০ একরের মতো জমি ঘিরে দিয়েছেন। এতে কিছু খাসজমিও আছে। একজন কৃষক তার জমি দখলের বিচার দাবিতে এমপি বরাবর অভিযোগ করেন। তার নাকি ৯০ শতাংশ জমি কাঁটাতারে ঘিরে দেয়া হয়েছে। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রহৃত হওয়ার অভিযোগ এসেছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট বিউবো বা পিডিবি দু’টি চুক্তি করেছিল ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ারের সাথে। পরে ইন্ট্রাকোর সোলার ‘প্যারামাউন্ট বি-ট্রাক এনার্জি’ কিনেছে। চুক্তি মোতাবেক, রংপুরের গঙ্গাচড়াতে ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরপার্ক গড়ার কথা, যেখানকার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হবে। এ বিদ্যুৎ ইউনিটপ্রতি ১২.৮০ টাকা করে ২০ বছর যাবৎ কেনার কথা পিডিবি কর্তৃক। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। বরং বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (পিডিবি) কাছে এ জন্য স্থান বদলের আবেদন জানিয়েই তিস্তা চরে এ কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। স্থানীয় পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘২৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনাপত্তির জন্য আবেদন করেছে। এ ব্যাপারে উপরে জানানো হয়েছে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, ‘রাস্তা নির্মাণসহ যেভাবে কাজ চলছে, তা তিস্তার ডান তীরসমেত নানা স্থানে ভাঙনসহ ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রকল্পটির ব্যাপারে পাউবোকে কিছুই আগে জানানো হয়নি।’ তারা এমন প্রকল্পের পক্ষপাতী, তবে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে যেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। পাউবোর সরেজমিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আলোচ্য প্রকল্পের কাজ চললে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধা পেয়ে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে। তিস্তার দু’চ্যানেলের পানি মিশে গেলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। জানা যায়, প্রকল্পের রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে অনেক জমিতে, যা আমনের পর্যাপ্ত চাষে বাধাস্বরূপ। পরিবেশ আন্দোলনকারীদের মতে, এমন প্রকল্প আমাদের জীবন ধ্বংস করছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘নদীর গতিপথ বিঘিœত হবে না। কারণ এ জন্য একাধিক সেতু থাকছে।’ জুন মাসে সংশ্লিষ্ট সরকারি বৈঠকে পাউবো জানায়, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর বামতীর অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। লালমনিহাটের ডিসি বলেছেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে আমাদের।’ তবে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে যেকোনোভাবে।



আরো সংবাদ


পাহাড়ে সন্ত্রাসী হামলায় একবছরে ১৮ জন নিহত ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যশোর জেলা মহিলা দলের মৌন মিছিল ১০ মাসেই চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো বাংলাদেশ ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী কেউ দেশে না আসাই ভালো’ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সশরীরে ক্লাস শুরু কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য কাটেনি সংক্রমণে ডেল্টাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে ওমিক্রন : দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা গাজীপুরে সাবেক মেয়র সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙ্গচুর পঞ্চসারে গুলি ও ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায় মামলা এইডস রোগীর কী চিকিৎসা আছে বাংলাদেশে?

সকল