০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`
আলু নিয়ে এলোমেলো অবস্থা

আশু পদক্ষেপ জরুরি

-

দেশে উদ্বৃত্ত আলু নিয়ে একটা এলোমেলো অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে উদ্বৃত্ত ২০ লাখ টন আলু বিক্রির ব্যবস্থা না হলে তা নদীতে ফেলে দিতে হবে বা গরুকে খাওয়াতে হবে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আমাদের আলুর বার্ষিক চাহিদা ৯০ লাখ টন। দেশে যে পরিমাণ আলু উৎপন্ন হয় তাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভালোভাবেই পূরণ হয়। ফলে এ নিত্যপণ্যটির দাম বছরজুড়েই মোটামুটি স্থিতিশীল থাকে এবং ক্রেতাসাধারণের সাধ্যেই থাকে। গত বছর কোনো কারণে আলুর দাম অনেক বেড়েছিল। তখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৪০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। দামের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার ওই সময় কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি ও খুচরাপর্যায়ে দাম বেঁধে দেয়। এতে কৃষক লাভবান হন। তারা ভালো দাম পান। সেই সাথে রাসায়নিক সারে ভর্তুকি দেয় সরকার। এতে উৎসাহিত হয়ে চাষিরা চলতি বছর বেশি পরিমাণ আলু চাষ করেন। ফলনও হয় ভালো। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখ টনের মতো। এখন সেই উদ্বৃত্ত আলু নিয়েই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। গেল মার্চ ও এপ্রিলে দেশের প্রায় চার শ’ হিমাগারে অন্তত ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টন আলু উদ্বৃত্ত। এই আলুর বিক্রি নিশ্চিত করতে দেনদরবার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তারা সরকারের বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলেছেন, বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান বেরিয়ে আসেনি।
দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ পাঁচ কোটি মানুষ আলু উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন ও রফতানির সাথে জড়িত। ২০ লাখ টন আলু নষ্ট হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির জরুরি ভিত্তিতে সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। একসময় আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। খুব জনপ্রিয় হয়েছিল একটি স্লোগান। সেটি ছিল, বেশি বেশি আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান বা এরকম কিছু। আলু এমন একটি সবজি যেটি দিয়ে চিপস, হালুয়া থেকে শুরু করে মুখোরোচক সব খাবার প্রস্তুত যায়। আলুর অন্তত ২০-২৫ প্রকারের পদ তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে সেগুলোর প্রদর্শনী হয়েছিল একসময়। আলুর রকমারি পদ তৈরি তথা আলুকে প্রধান খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করার উদ্যোগটি পরে পরিত্যক্ত হয়। এখন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা যেসব দাবিদাওয়া জানিয়েছেন তার মধ্যে আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার সেই দাবিটিও রয়েছে। তারা চাইছেন, আলুর ব্যবহার বৃদ্ধিকল্পে ত্রাণকাজ, কাবিখা, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং ওএমএসে বিতরণের পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিভিন্ন বাহিনী-সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের আলু খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হোক। আলুকে ভাতের বিকল্প হিসেবে প্রধান খাদ্যতালিকায় স্থান দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হোক। এ ছাড়া হিমাগার শিল্পে ভর্তুকি প্রদানসহ এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ৪ শতাংশ সরল সুদে ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা হোক। এসব দাবির কোনোটিই অযৌক্তিক বলার উপায় নেই।
খুচরা বাজারে এখনো আলুই একমাত্র সবজি, যার দাম মানুষের নাগালে রয়েছে। অন্য সব সবজির মতো আলুর দামে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আলু চাষে সম্পৃক্ত কৃষক ও অন্যদের স্বার্থ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

 



আরো সংবাদ