০৯ ডিসেম্বর ২০২১
`
বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হোক

নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই মুখ্য

-

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছ না। এমন ঘটনা একটি গণতান্ত্রিক দেশে চলতে পারে না। বেদনার বিষয়টি হলোÑ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমন নির্মম ঘটনার সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর অর্থাৎ গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও ‘ক্রসফায়ারে’ ৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি বিচারবহির্ভূত হত্যার তথ্য দেয়া ছাড়াও সাংবাদিক নির্যাতন, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সঙ্ঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথিত ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় বা এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন ৩৪ জন; বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৯ জন ও নির্যাতনে চারজন মারা গেছেন। গ্রেফতারের পর হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্যমতে) একজনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লিøখিত সময়ের মধ্যে কারাগারে অসুস্থতাসহ নানা কারণে মারা গেছেন ৬৭ জন। তাদের মধ্যে কয়েদি ২৫ এবং হাজতি ৪২ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বা গুমের শিকার ছয়জন। পরবর্তী সময়ে তাদের তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। নিখোঁজ আছেন আরো তিনজন। একই সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে নিহত হয়েছেন ১৮৮ জন, ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন ও ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাহিনী চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দেশে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বেশ কমে এসেছে।
মেজর সিনহার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে, দেশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অবস্থাটা কী। এত কিছুর পরও বিচারবহির্র্ভূত হত্যার ঘটনা বন্ধ না হওয়ায় স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রের দুর্বলতার কারণে হোক বা প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় হোকÑ এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হলো এমন এক ধরনের হত্যা, যা বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সংঘটিত হয়। নানা দেশে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। তবে সবসময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নাও থাকতে পারে। অনেক সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করে থাকে রাষ্ট্র। এমন হত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। এমন কাজ কোনো দেশের সংবিধান-সমর্থিত নয়। আমাদের দেশের আদালতও এর ঘোর বিরোধী। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় বাহিনী ছাড়াও বিশেষ কোনো রাজনৈতিক বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে একে রাজনৈতিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করা হয়।
সরকার সবসময় দাবি করে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাষ্ট্রীয় নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করে না। কিন্তু তারপরও বলা যায়, সুশাসনের ঘাটতি থাকায় দেশে আইনের শাসন খুবই দুর্বল। বাস্তবতা হলোÑ একটি দেশের সুশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং গণতন্ত্র যখন সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তখন সে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রশ্নই আসে না। আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেয়া যাবে না, কেবল তখনই সম্ভব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া।


আরো সংবাদ


সবই গেল মুরাদের (১৪৮৫৮)আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড (১৪৩৪৭)কীভাবে ফাঁস হলো ফোনালাপ? (১৪০৪১)হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : রাওয়াত অগ্নিদগ্ধ হলেও জীবিত, প্রাণ বিপন্ন স্ত্রী মধুলিকার (১৩০৭০)রাওয়াতকে বহনকারী কপ্টারটি এত আধুনিক হলেও ভেঙ্গে পড়লো কেন? (১১৭৬৫)আফগানিস্তানকে সাহায্য করার মতো সক্ষমতা একমাত্র ইরানের আছে (৮৮৯৭)ভারতে জেনারেল বিপিন রাওয়াতসহ সেনাকর্তাদের নিয়ে কপ্টার বিধ্বস্ত (৮৩৯৬)মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১ নম্বর আসামি রাসেলের বাড়ি সালথায় (৮০৯৭)ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানকে নিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : ১৪ আরোহীর ১৩ জনই নিহত (৬২৪১)ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান বিমান দুর্ঘটনায় সস্ত্রীক নিহত (৬১৮৫)