১৮ অক্টোবর ২০২১
`
আটকে পড়া প্রবাসী শ্রমিকরা সঙ্কটে

দরকার জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ

-

মালয়েশিয়ায় কর্মরত যেসব শ্রমিক মহামারী পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে এসেছিলেন তারা আর সে দেশের কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। চলতি বছরের মধ্যে ফেরার আর কোনো সম্ভাবনাও নেই। এদের সংখ্যা ২৫ হাজার। তারা ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন। এই ২৫ হাজার প্রবাসী কর্মীকে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত দেশেই থাকতে হবে। কারণ মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী কর্মীদের সে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
এর আগে টানা চার মাস লকডাউনে ছিল মালয়েশিয়া। সম্প্রতি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার অনেক বিধিনিষেধ শিথিল করলেও বিদেশী সাধারণ শ্রমিক ও গৃহপরিচারিকাদের ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। গত রোববার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে আটকে পড়া ওই সব কর্মীর ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।
মহামারীর কারণে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ হয় ২০২০ সালের মার্চে। পরে জুলাইয়ে শর্তসাপেক্ষে ট্রানজিট যাত্রী ও মালয়েশিয়ার রেসিডেন্স পারমিটধারী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থীদের সে দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়; কিন্তু ছুটিতে এসে বাংলাদেশে আটকে পড়া শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় ফেরার সুযোগ দেয়া হয়নি। ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে ওই কর্মীরা দেশে আটকা আছেন। এদের অনেকেই এখন আর্থিকভাবে দুরবস্থায় পড়েছেন। অনেকে বিকল্প কাজের সন্ধান করেও তেমন কিছু করতে পারছেন না।
মূলত বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের একধরনের অস্বস্তি আছে। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে বেশ ক’বার নানা ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। কখনো সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানো বা মানবপাচারের ঘটনা ঘটে। কখনো শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক জুলুম-অত্যাচারের ঘটনা ঘটে। এমনকি ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ায় অতিরিক্ত বাংলাদেশী কর্মীর কাজ, আশ্রয়, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাহীন অবস্থায় মানবিক বিপর্যয়ও ঘটেছিল। সেই ঘটনায় মালয়েশিয়াকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়।
২০১২ সালে সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে শুধু প্ল্যান্টেশন সেক্টরে ৪০-৫০ হাজার টাকায় ১০ হাজারের মতো কর্মী বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় পাঠায়; কিন্তু সেটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি জিটুজি প্লাস চুক্তি করে বাংলাদেশে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিকে জড়িত করা হয় শ্রমিক পাঠানোর কাজে। চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকার ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কনসোর্টিয়াম করে সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজ করার সুযোগ দেয়। সেই কনসোর্টিয়াম অকার্যকর প্রমাণিত হয়।
কারণ সেই ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেট আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করা হয়। একইভাবে কর্মী নিয়োগের খরচ উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হয়। সে সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশেরই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এভাবে একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার বিনষ্ট করা হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশী জনগণের প্রতি সদিচ্ছা এবং বিকাশমান অর্থনীতির দেশটিতে বিদেশী শ্রমিকের বিপুল চাহিদার কারণে মালয়েশিয়া বারবার বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করেছে। এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার ভিত্তিতে আটকে পড়া ২৫ হাজার শ্রমিকের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কিছু করার সুযোগ আছে। কারণ বাংলাদেশের মতো মালয়েশিয়াতেও মহামারী পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং দুই দেশেই অনেক বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। মহামারী-উত্তর বর্তমান সময়ে প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা প্রত্যাশিত।



আরো সংবাদ


মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২৯০৫)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১২২০৬)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৫৬৯)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৪১৪)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০৩৮)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬৬০০)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৭)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৯৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৮৬২)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৯)