১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`
বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের সমুদ্ররেখা

সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশিত

-

আইন অনুযায়ী বেইসলাইন বা ভিত্তিরেখা সমুদ্রতীর থেকে নির্ধারণের বিধান থাকলেও ভারতের কিছু ভিত্তিরেখা সমুদ্র থেকে ধরা হয়েছে। যেমন দেশটির ৮৭ নম্বর ভিত্তি পয়েন্টটি সমুদ্র থেকে শুরু। সেখান থেকে ভারতীয় উপকূল আনুমানিক সাড়ে ১০ নটিক্যাল মাইল (নৌ-মাইল) দূরে। ভারতের ৮৯ নম্বর ভিত্তি পয়েন্টের অবস্থান বাংলাদেশের জলসীমানার প্রায় ২ দশমিক ৩ মাইল অভ্যন্তরে। অথচ বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ২০১৪ সালে যে রায় দিয়েছেন, তা দুই পক্ষই মেনে নিয়েছে। ওই রায়ের পর এখন নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কারণ নেই। সঙ্গতভাবেই বলা যায়, দিল্লিøর এমন আচরণ সৎ প্রতিবেশীসুলভ নয়। তবে ভারতের এমন আচরণে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অভিন্ন নদী নিয়ে আমাদের প্রতি ভারতের আচরণই বলে দেয় দিল্লি প্রতিবেশীর ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় কখনোই মনোযোগী ছিল না এবং এখনো নেই। ফলে বাংলাদেশ এ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
আন্তর্জাতিক বিধানে বলা আছে, সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর ভূখণ্ডের যে অংশ সমুদ্রের দিকে পানির নিচে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে নেমে যায়, তাকে মহীসোপান বলে। সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর স্থলভাগের ভিত্তিরেখা থেকে লম্বালম্বিভাবে সমুদ্রের সাড়ে তিন শ’ মাইল এলাকাকে সংশ্লিষ্ট দেশের মহীসোপান বলা হয়। এর মধ্যে ২০০ মাইল পর্যন্ত এলাকার মালিকানা সম্পূর্ণরূপে ওই দেশের। সেখানে অন্য কোনো দেশ মাছ ধরতে পারে না এবং খনিজসম্পদের দাবি করতে পারে না। এই ২০০ মাইলের পর ১৫০ মাইল পর্যন্ত সীমায় সমুদ্রের তলদেশে খনিজসম্পদের মালিক ওই দেশ, তবে মাছ ধরতে পারে সব দেশ। কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে ভারত নিজের সমুদ্রসীমা নির্ধারণে যে উপকূলীয় ভিত্তিরেখা ব্যবহার করেছে, এর একটি অংশ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভেতরে পড়েছে। সাত বছর ধরে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থানের বিষয়টি অবহিত করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। বঙ্গোপসাগরে মহীসোপানের দাবির বিষয়ে বাংলাদেশের যুক্তির বিপক্ষে আপত্তি জানিয়ে ভারত গত এপ্রিলে জাতিসঙ্ঘকে একটি চিঠি দিয়েছিল। দিল্লিøর ওই চিঠির বিষয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে আরেকটি চিঠি দেয় ঢাকা। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ বলেছে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা অনুসরণ করেই মহীসোপানের দাবি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ।
নিজের সমুদ্রসীমা নির্ধারণে ভারত ২০০৯ সালের মে মাসে উপকূলীয় একটি ভিত্তিরেখা ব্যবহার করে আসছে। ওই ভিত্তিরেখার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ২০০৯ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তাতে ভারতের ওই ভিত্তিরেখার একটি অংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকায় তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভুলটি সংশোধনের অনুরোধ করা হয়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত দুই নিকট প্রতিবেশীর সীমানা নির্ধারণ করে রায় দেয়ার পর ভিত্তিরেখার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সুরাহার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ; কিন্তু বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ভারত।
ভারতের ভিত্তিরেখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালে ভারত টেরিটোরিয়াল ওয়াটার ও মেরিটাইম জোন-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে। এর ৩৩ বছর পর ২০০৯ সালে ভিত্তিরেখা নির্ধারণে সংশোধনী আনে। আগের নিয়মে সমুদ্রের পানির নিম্নস্তর থেকে ভিত্তিরেখা নির্ধারণের বিধান থাকলেও বর্তমানে তারা ‘স্ট্রেট লাইন বেইসলাইন’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা আনক্লজের (জাতিসঙ্ঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন) ৭ নম্বর ধারার পরিপন্থী।
ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমানা নিয়ে ঢাকার অবস্থান যুক্তিসঙ্গত এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ। দুই পক্ষের মধ্যে সমুদ্রসীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিরোধ বিশ্বসঙ্ঘের সালিসি আদালত নিষ্পত্তি করে দেয়ার পর অন্য কোনো দাবি জাতিসঙ্ঘের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার যৌক্তিকতা নেইÑ এই বক্তব্য আমলে নিয়ে এখনো ভারত দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিতে পারে; কিন্তু সাত বছরেও যখন ভারত বিষয়টি সুরাহা করেনি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই নিজের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে হবে।



আরো সংবাদ


আ’লীগের সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত করোনায় আরো ৭ জনের মৃত্যু পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে পারেন কোহলিরা জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর দায়ে আর্মেনিয়াকে অভিযুক্ত করল আজারবাইজান ফেসবুকে কোরআন নিয়ে কটূক্তি, সিরাজদিখানে আটক যুবক কারাগারে আগামী বছরের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বালিয়াকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত দ্রুত বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুতারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূরুঙ্গামারীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ভারতে মুসলিম নিধনের চিত্র

সকল