২০ জানুয়ারি ২০২১
`
রোহিঙ্গাদের জন্য মামলার অর্থসঙ্কটে গাম্বিয়াv

সহায়তা অনেক বাড়াতে হবে

-

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়ে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম হওয়ার কারণেই কি তারা মানুষ হিসেবে অধিকার থেকে বঞ্চিত? এখন তারা সম্ভবত বিশ্বে একমাত্র রাষ্ট্রহীন সর্বাপেক্ষা হতভাগ্য জাতিগোষ্ঠী। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হলেও তাদের পক্ষে জোরালো আওয়াজ নেই। তাদের পক্ষে নেই বিশ্বের কোনো সুপার পাওয়ার যাতে তারা মিয়ানমার তথা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার পেতে পারে। রোহিঙ্গা নিপীড়নে বাংলাদেশ হলো সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কোনো প্রক্রিয়ায় প্রতিবেশী মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি বাংলাদেশ যাতে রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার পায় এবং বাংলাদেশ নিজেও এই সঙ্কট থেকে রক্ষা পায়। মুসলিম দেশ হিসেবে কেউ সেভাবে এগিয়ে আসেনি এ জন্য। অবস্থা যখন এতটাই বেগতিক, তখন আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া এগিয়ে আসে রোহিঙ্গাদের পক্ষে। তারা গণহত্যার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। জানা যাচ্ছে, অর্থসঙ্কটে মামলা চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
নাইজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৭তম বৈঠক। অনুষ্ঠানে ৫৭টি দেশের মন্ত্রীদের মধ্যে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেয়া জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আলোচনায় স্থান পেয়েছে। আরো ছিল ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন ভূখণ্ডের বিষয়। সম্মেলনে অংশ নিয়ে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী জানান, আইসিজেতে মামলা পরিচালনা করতে তারা অর্থসঙ্কটে পড়েছেন। গাম্বিয়া একটি আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে মামলাটি পরিচালনার জন্য। এ জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার ১০ শতাংশও তারা পাননি। ওই মামলা পরিচালনার জন্য ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিচার পাওয়ার জন্য ওআইসির হয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার পাঁচ লাখ ডলার দিয়েছে এ মামলা পরিচালনার জন্য। এ ছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক এবং নাইজেরিয়া মামলা পরিচালনায় অর্থ দিয়েছে। গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী পরামর্শক সংস্থাকে যে অর্থ পরিশোধ করেছেন তা প্রয়োজনের মাত্র ১০ শতাংশ। গাম্বিয়া একটি দরিদ্র দেশ। এ অবস্থায় অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি সামনে চলে আসে। ৫৭টি মুসলিম দেশ রোহিঙ্গাদের সুবিচার পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাঁদা দিয়ে অংশগ্রহণ করলেও এ মামলা স্বাচ্ছন্দ্যে পরিচালনা করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো তাদের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলে গাম্বিয়ার জন্য মামলা পরিচালনা করা সহজ হবে।
বিশেষ করে জাতি হিসেবে মুসলিমরা অধিকার পাওয়ার প্রশ্নে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে তারা সঠিক সাড়া পায় না। ফিলিস্তিনের মানুষরা কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে নিজের ভিটেমাটি থেকে আজো বঞ্চিত। তাদের বিরুদ্ধে যখন মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এর বিচারের প্রয়োজন অনুভব করে না। আমরা দেখেছি, কেবল খ্রিষ্টান পরিচয়ের কারণে পূর্ব তিমুরবাসী কত সহজে স্বাধীনতা পেয়েছে। তদুপরি মুসলিমরা তাদের অধিকার অর্জনে যথেষ্ট সোচ্চার নয়। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার জন্যই ওআইসির জন্ম। সংস্থাটির রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। তবে রোহিঙ্গাদের অধিকার অর্জনে তারা তেমন কিছু করতে পারেনি। আমরা মনে করি, গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এ ক্ষেত্রে বিচার পাওয়ার যে ক্ষীণ আশা তৈরি করেছে তার পক্ষে ওআইসির শক্তভাবে দাঁড়ানো দরকার। নিজেদের ভাইদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং স্বদেশে তাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার আদায়ে ওআইসিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মামলার যে খরচ সেটা পেতে যাতে গাম্বিয়াকে বেগ পেতে না হয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সে প্রত্যাশা অন্তত করতে পারে।

 



আরো সংবাদ