২৭ জানুয়ারি ২০২১
`
এবার তীব্র শীতের আশঙ্কা

আগাম প্রস্তুতিই করণীয়

-

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, প্রচণ্ড গরম আর তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ফলে হিমালয়ের নিকটবর্তী দেশের উত্তরাঞ্চলে ঠাণ্ডা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। লক্ষণীয় বিষয় হলোÑ গ্রামাঞ্চলে চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের আগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। সাধারণত অগ্রহায়ণের চতুর্থ সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশে শীত আসতে শুরু করে। কিন্তু দিন পনের আগেই অনেক অঞ্চলে ক্রমাগত কাছাকাছি আসছে সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। কমছে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। এতে বাড়ছে আর্দ্রতার শতকরা হার। সর্বোচ্চ-সর্বনি¤œ তাপমাত্রা কাছাকাছি আসা এবং সন্ধ্যায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পক্ষকাল আগে শীত শুরু হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থার উন্নতি না হলে এবার তীব্র শীত পড়বে। এ ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর লক্ষণ ইতোমধ্যে ফুটে উঠেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণের শুরু থেকে ক্রমাগত বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মাগরিবের নামাজের আগেই জনপদগুলো কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। মানুষ শীতের গরম কাপড় পরে চলাফেরা করছেন। রাতে লেপ ব্যবহার শুরু হয়েছে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে বহু পরিবহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। অবস্থা এখনই এমন হয়েছে, উত্তরের জেলাগুলোতে গত শুক্রবার দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। ওই দিন সন্ধ্যার পরপরই কুয়াশায় ঢাকা পড়ে বিস্তীর্ণ জনপদ।
সরকারি হিসাবে উত্তরের ১৬ জেলায় অতিদরিদ্রের সংখ্যা ২০ লাখ। তাদের ভিজিএফ, ভিজিডিসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। অন্য দিকে সেন্টার ফর স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি) নামে একটি সংগঠনের জরিপ বলছে, উত্তরের ১৬ জেলায় পৌনে এক কোটি অতিদরিদ্র মানুষের বসবাস। কিন্তু এসব অতিদরিদ্র মানুষের শীত নিবারণে গরম কাপড় কেনার খুব একটা সামর্থ্য নেই। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার দেয়া শীতবস্ত্র দিয়েই প্রতি বছর প্রয়োজন মেটান তারা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় ফি বছরই শীতে অনেককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে দেখা দেয় মানবিক বিপর্যয়। এবার শীতের অতীত সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বলা হলেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত অতিদরিদ্রদের কথা বিবেচনায় আগাম কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার দুই মাস আগেই দেশের কোথাও কোথাও শীত জেঁকে বসছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, শীতের তীব্রতা বাড়বে বহু গুণ। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় গরিবদের গরম কাপড়ের জন্য আগাম উদ্যোগ না থাকাকে অপরিণামদর্শিতা বলতে হবে। একটি প্রবণতা লক্ষণীয়, শীতের সময় জোড়াতালি দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য সহযোগিতা করা হয়। তাই শীত মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য এলাকার দরিদ্রদের বিষয়ে সরকার কার্যকর প্রকল্প না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে । এ জন্য এখনই শীত মোকাবেলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতি নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
সারা দেশে শীত আসতে না আসতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। আগাম শীত আসায় অনেক এলাকায় হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের ৭০ ভাগই নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং মাথাব্যথার রোগী। তাদের মধ্যে আবার ৮০ ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। অন্য দিকে শীতে বাড়ছে মহামারী করোনার প্রকোপ। অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, দেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শীতে এর মাত্রা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। সব মিলিয়ে এবারের শীত আমাদের জন্য কোনো ভালো বার্তা বয়ে আনছে না বলেই মনে হয়। তাই এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধ্যমতো আগাম প্রস্তুতি নেয়াই বাঞ্ছনীয় এবং সুবিবেচনাপ্রসূত। বলা চলে, আগাম প্রস্তুতিই একমাত্র সমাধান।



আরো সংবাদ