২০ জানুয়ারি ২০২১
`
দায়িত্ব যাচ্ছে দু’সিটির কাঁধে

জলাবদ্ধতা লাঘবই কাম্য

-

রাজধানীর খাল-নালার দায়িত্ব এ যাবৎ ছিল ওয়াসার। বিলম্বে হলেও তা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন সিদ্ধান্তমাফিক আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পেলে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হবে। একটি সহযোগী দৈনিক আরো জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে ঢাকার জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘকালীন সমস্যা দূর হওয়ার আশা করা যায়। তখন ঢাকা ওয়াসা এ ব্যাপারে শুধু ‘দায়মুক্তি’ পাবে না, তার সংশ্লিষ্ট যাবতীয় লোকবল, সাজসরঞ্জামসহ সম্পদ এবং প্রকল্পগুলোও সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, নিকট অতীত থেকে দেখা যায়Ñ বর্ষাকাল আসুক বা না আসুক, একটু জোরে বর্ষণ ঘটলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর সুরাহা করার বড় দায়িত্ব ওয়াসার, অর্থাৎ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের ওপরে ঢাকা নগরের ২৬টি খাল এবং ৩৮৫ কিলোমিটার নালা সংস্কার ও সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব। এ শহরে বৃষ্টি হলে এসব খাল ও নালার মাধ্যমেই পানি বুড়িগঙ্গাসহ নিকটবর্তী কয়েকটি নদীতে গিয়ে পড়ে। নগরবাসীর অনেকের পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞমহল এবং সেই সাথে উভয় সিটি করপোরেশন অভিযোগ করে আসছে, ‘ওয়াসা খাল-নালার ব্যাপারে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে না। তাই জলাবদ্ধতার অবসান হয় না এবং এ কারণে জনদুর্ভোগ চলছে।’ এমনকি, ঢাকার দু’মেয়র ওয়াসাকে ‘ব্যর্থ’ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে এর ওপর এ যাবৎ ন্যস্ত, খাল ও নালাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেয়ার দাবি তুলেছেন। শেষাবধি, সে মোতাবেক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এটাকে স্বাগত জানালেও বলেছে, ‘সমস্যাটা দীর্ঘ দিনের। তাই এর ম্যাজিক সমাধান নেই।’ অবশ্য তারা আশা করছেন, সিটি করপোরেশন দু’টি এই দায়িত্ব নিলে জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানরূপে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে সফল হবে।
স্মর্তব্য, ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ২০১২ থেকে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করে খাল-নালার দায় সিটি করপোরেশনদ্বয়কে দেয়ার জন্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে, ‘একহাতে’ জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব নিতে ২০১৭ সালে মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করলেও এর খবর আর মেলেনি। সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার খাল-নালা সিটিতে হস্তান্তরের জন্য ১৪ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন করে উভয় সিটি করপোরেশন আর ওয়াসা থেকে রয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের দু’জন অতিরিক্ত সচিব কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, ‘ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারসমেত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দায়িত্ব পেলে সিটি করপোরেশন তা পালন করবে।’ সাধারণত সিটি করপোরেশনই জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব নির্বাহ করে থাকে। তবে ১৯৮৯ সালে রাজধানীতে এ দায়িত্ব দেয়া হয় ওয়াসাকে। শিগগিরই নতুন সিদ্ধান্তের সুফল আশা করছেন ঢাকাবাসী।
আমাদের ঐকান্তিক প্রত্যাশা, ঢাকার বাসিন্দাদের আকাক্সক্ষা মোতাবেক, এবার জলাবদ্ধতা সঙ্কটের অবসান ঘটবে। শুভ কাজে বিলম্ব করতে নেই। তাই যত তাড়াতাড়ি এ পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে, ততই জনগণের দুর্ভোগের অবসানের আশা প্রবল হবে। সরকার জনসাধারণকে আর যেন হতাশ না করে।



আরো সংবাদ