০২ ডিসেম্বর ২০২০
আজ ঈদে মিলাদুন্নবী সা:

কুরআনের দিকে ফিরে আসুন

-

আজ পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল। এ দিন মক্কা নগরীতে জন্ম হয়েছিল মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সা:-এর। একই দিন পৃথিবী থেকে তিনি বিদায় নেন। এ দিনটি নিয়ে তাই বিশ্ব-মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ আবেগ রয়েছে। এবার দিনটি এমন এক সময় এসেছে যখন ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠতম নবীর প্রতি হিংসাবিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজকে কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না। হিংসুকদের হিংসা শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আমরা ফ্রান্স ও অন্যদের এ ব্যাপারে আহ্বান জানাব তাদের আগ্রাসী অবস্থানের সংশোধন করে নিতে। এ ব্যাপারে মুসলমানদের সচেতনতা অবলম্বন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর মুসলমানরা দিনটি পালন করে থাকেন শেষ নবী সা:-এর আদর্শকে স্মরণ করে। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান নিয়ে এসেছিলেন। সেটি তিনি বাস্তবায়ন করেও মানুষের মধ্যে অনুপম নিদর্শন হয়েছিলেন। নবীজীবনের শিক্ষা হচ্ছে, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে মানবতার কল্যাণে আজীবন নিয়োজিত হওয়া এবং রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত সত্য ও ন্যায়ের পথকে নিজের জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা। বর্তমান মুসলমান সমাজের সাথে এর মিল কমই পাওয়া যায়। আজকের এ দিনে সবাইকে সে শিক্ষার দিকে ফিরে যাওয়ার শপথ নিতে হবে।
রাজা-বাদশাহ-আমির-ফকির কেউ ছোট, কেউ বড় নয়। কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। সব মানুষ সমান। আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কোনো অবস্থাতেই মাথা নোয়ানো যাবে না। মুহাম্মদ সা: প্রচার করেছেন, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে আল্লাহর নির্দেশিত পথে সারা জীবন নিষ্ঠার সাথে চলার মধ্যে। মানুষ ইহকালে যে কাজ করবে, পরকালে আল্লাহর কাছে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং এ জন্য প্রতিফল পাবে। যারা আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল, আখেরাতে এবং শেষ বিচারের দিনের প্রতি বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও কল্যাণের পথ অনুসরণ করবেন, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান পুরস্কার। তারা পাবেন শাশ্বত শান্তিময় স্থান বেহেশত বা জান্নাত। যারা সত্যের পথে চলবে না এবং নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব করবে, তাদের জন্য রয়েছে চরম শাস্তির চিরন্তন স্থান জাহান্নাম। সেখান থেকে কখনো তারা বের হতে পারবে না।
মুহাম্মদ সা:-এর প্রতিটি কাজের লক্ষ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। এমন কাজ করতে গেলে সাধারণভাবে আশপাশের লোকেরা উপকৃত হয়। আমরা দেখেছি তাঁর আগমনের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পুরো আরব উপদ্বীপের মানুষ আল্লাহর কাছে মাথা নত করেছিল। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু আরবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তৎকালীন দুটো সভ্যতা পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যও গ্রহণ করেছিল ইসলামকে। ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। রাসূল সা: এ পথে শত্রুকে বুকে নিয়ে করেছেন মিত্র। তিনি মানুষের পরম আস্থাভাজন ছিলেন। সেই সূত্রে তাঁর সময়ের আরব দুনিয়ায় নিজেকে সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আল-আমিন বা বিশ্বাসী হিসেবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অসি হাতে যুদ্ধ করেছেন; কিন্তু অন্যায়ভাবে সামান্য আঘাতও দেননি। যুদ্ধবন্দীদের দিয়েছেন অতুলনীয় মানবাধিকার। তিনি মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ আদর্শ। অপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য তিনি তাগিদ দিয়েছেন। ওয়াদা রক্ষায় তিনি ছিলেন শতভাগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আদর্শ ও ন্যায়ের পথে মুসলমানরা যখন ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ, তখন সাফল্য তাদের হাতের মুঠোয় এসেছিল। তবে মূল আদর্শ বাস্তবায়নে তারা যখন গাফেল হয়ে উঠতে শুরু করেন, তখন থেকেই মুসলমানদের পতনের শুরু। আজ তারা আদর্শচ্যুত হয়ে পতনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। আমরা যদি মুহাম্মদ সা:-এর চিরন্তন আদর্শের দিকে ফিরে যেতে না পারি, তবে এ অধঃপতন থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই।
মানবজাতি সে আদর্শ অনুসরণ করলে আজকের দুনিয়ার অন্যায়, অশান্তি, অনাচার, অবিচার, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের অবসান হওয়ার পথ তৈরি হবে। এ পথ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে সর্বশেষ আসমানি কিতাব কুরআনে। আসুন, আমরা সবাই এ কুরআনের দিকে ফিরে যাই।

 

 

 


আরো সংবাদ