০১ ডিসেম্বর ২০২০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

পরীক্ষা পদ্ধতি দ্রুত নির্ধারণ করুন

-

করোনা মহামারীর কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে সবাইকে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে দেশের শিক্ষার মানের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হয় তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। উচ্চ মাধ্যমিকে সব শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিভাবে ছাত্র বাছাই করা হবে; তা নিয়ে আলোচনা হলেও জটিলতা কাটেনি। কিন্তু বাছাইয়ের উপযুক্ত পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে বাছাইয়ে বাদ না পড়েন; সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এমন বাস্তবতায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনও এবার কী পদ্ধতিতে সম্মান প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি শুধু এটুকুই যে, ঢাবি ডিনস কমিটির ‘বিশেষ বৈঠকে’ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অনলাইন ভর্তি পরীক্ষায় না যাওয়া, পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০-তে কমিয়ে আনা ও বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেছে ডিনস কমিটি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ডিসেম্বরে এইচএসসির ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথমবষের্র ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। ডিনস কমিটির বেশির ভাগ সদস্য অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে বরং বিভাগভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করেছেন। অর্থাৎ দেশের আটটি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন তারা। গুণগত মান ধরে রাখতে এসএসসির ফল দেখা এবং সেখান থেকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যায় সে পদ্ধতি নিয়ে আরো বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনার কথা বলা হয়েছে।
ভর্তি বিষয়ে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান বলেছেন, “ডিনস কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। সেগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। শিগগিরই ‘জেনারেল অ্যাডমিশন মিটিংয়ে’ অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় না যাওয়া, বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।” এ ছাড়াও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার পূর্ণমান ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০-তে আনার সুপারিশও করেছে কমিটি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২০০ নম্বর হলেও এবার পূর্ণমান থাকবে ১০০। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক থেকে রেজাল্টের ওপর ৮০ নম্বর থাকলেও সেটি কমিয়ে ২০ নম্বর করা হয়েছে। আর এমসিকিউ নম্বর ৭৫ থেকে ৩০ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার নম্বর থাকবে ৫০। সব মিলিয়ে ১০০ নম্বরের ওপর ভর্তি ইচ্ছুকদের মেধাক্রম তৈরি করা হবে।
আমরা মনে করি, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে ভর্তি পরীক্ষা এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে যথাযথভাবে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে। অন্যথায় শিক্ষার উচ্চতর পর্যায়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের ভিড়ে মেধাবীরাও হারিয়ে যাবেন এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ফলে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া কতটুকু বাস্তবসম্মত তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। প্রযুক্তির অপর্যাপ্ততায় দেশে ডিজিটাল মাধ্যমে মেধা যাচাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের বিপুলসংখ্যকেরই প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত। তাই সবার আগে মনে রাখতে হবে, যোগ্যদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। এটি বিবেচনায় নিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রশাসনকে ভর্তিপদ্ধতি ঠিক করতে হবে, যাতে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাবি প্রশাসনকে পদ্ধতিটি দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কিছু সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিতে হলে যৌক্তিক সময় প্রয়োজন।


আরো সংবাদ