০৫ ডিসেম্বর ২০২০
সাতক্ষীরায় খাদ্যাভাব

জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হোক

-

মরা কার্তিকের মঙ্গা বলে একটা আকালের সময় ছিল উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। কৃষিকাজ না থাকায় প্রান্তিক চাষি ও কৃষি শ্রমিকদের ঘরে ঘরে হানা দিত ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ। খাবারের অভাবে আশ্বিন-কার্তিক দু’টি মাস খেয়ে, না খেয়ে চরম সঙ্কটে দিন পার করত লাখ লাখ হতদরিদ্র মানুষ। সেই পরিস্থিতি অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছে বাংলাদেশ। আগাম জাতের ধানের আবাদ, সরকারি কর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মসূচি ইত্যাদি কারণে মঙ্গা আর সেভাবে দৃশ্যমান নয় উল্লিখিত জেলাগুলোর জনজীবনে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ইতিবাচক চিত্র ফিকে হয়ে আসার আলামত দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও।
গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, সাতক্ষীরা জেলায় এবার যেন নতুন করে মঙ্গা ছোবল দিতে শুরু করেছে। বুধবার একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়, সাতক্ষীরায় কৃষক পরিবারে খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাদের এখন দিন কাটছে খেয়ে, না খেয়ে। আশ্বিন-কার্তিকের আকাল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও করোনা মহামারীর বিরূপ প্রভাব এই সঙ্কটের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, আমন ধান এখনো মাঠে থাকায় কৃষকের হাতে এই মুহূর্তে কোনো কাজ নেই। ফলে চরম আর্থিক দৈন্যের মধ্যে পড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের তিন লাখ পরিবারের প্রায় ১১ লাখ মানুষ। সেখানে ৩০ টাকা কেজি দরের ওএমএসের চাল কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। সংসার চালানো ও গো-খাদ্যের অভাবে অনেকে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছে কম দামে। অনেকে আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
কৃষিকাজের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল প্রান্তিক চাষি, বর্গাচাষি, কৃষি শ্রমিক যারা ধান রোপণ, ধান কাটা-মাড়াই অথবা ইটভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা এখন বেকার। বেঁচে থাকার মূল উপকরণ খাবারের সংস্থান করতে পারছেন না। খাবার জোগাতে অনেকে আগাম শ্রম বিক্রি করছেন। ঘরের জিনিস বিক্রি করছেন কেউ কেউ। খবরে জানা যাচ্ছে, সাতক্ষীরা জেলার অনেক এলাকায় বছরের তিনটি মাস (ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক) মানুষের কোনো কাজ থাকে না। তখন চরম আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে দিনাতিপাত করেন তারা। আর এ চিত্র শুধু চলতি বছরের নয় বরং প্রতি বছরেরই।
সাতক্ষীরা জেলার ২৩ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে ১১ লাখ কৃষির ওপর জীবিকা নির্বাহ করে। বছরের বেশির ভাগ সময় এদের ঘরে খাদ্যশস্য থাকে না। বিশেষ করে ওই তিনটি মাস তাদের সংসার চলে চরম অভাবের মধ্যে। এ বছর উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্য উৎপাদন ও চাহিদার সমন্বয়হীনতার কারণে ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে খাদ্যসঙ্কট। সামনে অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে, ইটভাটার কাজও পাওয়া যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা করা বেশি জরুরি। কার্তিক, অগ্রহায়ণ দুই মাসের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসূচি নেয়া যায় কি না সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা ভেবে দেখতে পারেন। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে আগাম জাতের ধানের আবাদ করে যেভাবে মঙ্গা প্রতিরোধ করা গেছে সাতক্ষীরায় সামনের বছর থেকে তেমন উদ্যোগ নেয়া হলে তা কার্যকর হতে পারে।
এখন পর্যন্ত কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। দেশের মানুষের শতকরা প্রায় ৮৫ জনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জিডিপির প্রায় ১৫.৩৩ শতাংশ আসে কৃষি খাত থেকে। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান আসে কৃষি থেকে। এ ছাড়াও প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন মুখের জন্য তিন লাখ টন অতিরিক্ত খাদ্যের জোগান দিতে হয় এ খাতকে। কিন্তু এই ফসল ফলানোর যারা মূল কুশীলব সেই চাষি ও কৃষি মজুরের সমস্যা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে বলে মনে হয়। রংপুরের মঙ্গা যেন অন্য কোনো এলাকায় নতুন করে থাবা বসাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।


আরো সংবাদ

মানুষের মতো দেখলেও তাকে যে কারণে জঙ্গলে ফল-ঘাস খেয়ে থাকতে হয় (১০৬৬২)বায়তুল মোকাররমের সামনে ভাস্কর্যবিরোধীদের মিছিলে লাঠিচার্জ (৯২৬৬)ইরানি বিজ্ঞানী হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রথম মুখ খুললেন বাইডেন (৯১৬১)রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো (৭৪৬২)ভাস্কর্য, মহাকালের প্রেক্ষাপট (৭০৯১)কোনো মুসলিম হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা (৬৭৯৭)নাগর্নো-কারাবাখে জয় পেতে কত সৈন্য হারাতে হলো আজারবাইজানকে? (৬৭৯২)আমারও একটি ধর্ম আছে (৬২৮৯)নতুন পরমাণু কেন্দ্রে জ্বালানী ঢোকানোর কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান (৫৫৪৩)ইরানের পরমাণু কর্মসূচির রিপোর্ট ফাঁসের নিন্দা রাশিয়ার (৫১৯২)