০১ ডিসেম্বর ২০২০
ইবতেদায়ি শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

৩৪ বছর বেতন নেই!

-

‘প্রতিষ্ঠান আছে; আছে ছাত্রছাত্রীও। বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে বই। শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে উপবৃত্তি। শুধু নেই শিক্ষকদের বেতনভাতা। এ অবস্থায় চলছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো।’
একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনের সূচনা বাক্যগুলোতে এভাবেই তুলে ধরা হয়েছে ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষাদানের মহান কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ। জানানো হয়েছে, একই সাথে গড়ে ওঠা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করার বিষয়। বলা হয়েছে, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সঙ্গতভাবেই পাচ্ছেন জাতীয় স্কেলের বেতন। অপর দিকে, দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ বেতন না পেয়ে মানবেতর দিন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা এবং তাদের অসহায় পরিজন। বেতনহীন অবস্থাতেই অনেক ইবতেদায়ি শিক্ষককে যেতে হয়েছে অবসরে। এমনকি, অনেকে ইহলোক ত্যাগ করেছেন এ অবস্থায়ই।
অবিশ্বাস্য রকম দুর্ভাগ্যের শিকার, তথা নজিরবিহীন বঞ্চনা ও বৈষম্যের পাত্র এই শিক্ষকরা জানিয়েছেন, জাতীয়করণের দাবি নিয়ে তারা আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়েছেন বারবার। আর সরকার আশ্বাসও দিচ্ছে বারবার; কিন্তু এটা আজো কার্যকর না হওয়ায় এহেন আশ্বাসে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইবতেদায়ি শিক্ষকদের কয়েকজন নেতা জানান, ১৯৭৮ সালের সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ মতে, শিক্ষা বোর্ডের প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে এবং মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ১৬ বছর পরে ১৯৯৪ সালে অভিন্ন পরিপত্রে দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন নির্ধারিত হয়েছিল ৫০০ টাকা করে। পরবর্তীকালে মহাজোট সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে। অথচ, ইবতেদায়ি মাদরাসা থেকে গেছে আগের অবস্থায়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো, পরিচালনা সত্ত্বেও ইবতেদায়ি শিক্ষকরা আজ পর্যন্ত বেতনভাতা থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত। স্মর্তব্য, ২০১৮ সালে তাদের ধর্মঘট ও অনশনসহ আন্দোলনের সময় তদানীন্তন শিক্ষা সচিবও আশ্বাস দিয়েছেন দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারে। তবুও তা কার্যকর হয়নি আজো। এ দিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দুর্গতি এখন চরমে।
এই প্রেক্ষাপটে আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা। তারা মুজিববর্ষে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আন্দোলন দেশের সব ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, কোডবিহীন মাদরাসার কোড প্রদান, পিটিআই ট্রেনিংসহ সাত দফা দাবিতে। এসব দাবি পূরণ করা না হলে আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে অব্যাহত আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে, তা বোঝার জন্য সিরাজগঞ্জের একজন শিক্ষকের বক্তব্যই যথেষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ইবতেদায়ি মাদরাসায় চাকরি করেও কোনো বেতন পাই না।’
আমাদের সবার প্রত্যাশা, বিলম্বে হলেও এবার ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের দুর্দিনের অবসান হবে এবং তাদের দাবিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটবে।


আরো সংবাদ