৩০ নভেম্বর ২০২০
ডিসেম্বরে পাঠ্যবইয়ের কাজ শেষ হবে না?

সময়সীমা মেনে চলতে হবে

-

এবার নির্ধারিত সময়ে স্কুলের পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করা যাবে কি না, আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ প্রত্যেক বছর অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্তত ৬০-৭০ শতাংশ বিনামূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছে যায় উপজেলাগুলোতে; কিন্তু এবার মাত্র ১৫ অক্টোবর প্রাথমিকের বই পাঠানো শুরু হলো। আর চলতি সপ্তাহে আরম্ভ হয়েছে মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ। ফলে হাতে সময় অল্প, অথচ কাজ অনেক। অন্য দিকে, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, তারা ‘অসহযোগিতার শিকার’ নানাভাবে। এ অবস্থায় মূল কাজ বিঘিœত হওয়ায় ডিসেম্বরের মধ্যে বইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে কি না সন্দেহ।
একটি সহযোগী দৈনিক এক প্রতিবেদনে আরো জানায়, করোনা মহামারীর দরুন পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যাদেশ দিতেই দেরি হয়ে গেছে। তদুপরি বইয়ের মান তদারককারী প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তবে সরকার বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না থাকলেও ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ যথাসময়েই করা হবে। ‘যে কোনোভাবেই হোক’, নতুন বছরের পয়লা দিনেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। করোনার কারণে কার্যাদেশ প্রদানে বিলম্ব ঘটায় মুদ্রাকররা সময় পাচ্ছেন জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তবে তাদের ‘বুঝিয়ে শুনিয়ে’ ডিসেম্বরের মধ্যেই পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বই পেতে চাচ্ছে। অবশ্য যতই বোঝানো হোক, এ সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করা যাবে কি না তা অনিশ্চিত। এ দিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘মান তদারকি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো, নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত কাজ করা।’
জানা যায়, আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলের প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করার কথা। এর মধ্যে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি বই প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলের। মাধ্যমিক এবং মাদরাসার দাখিল ও ইবতেদায়ি স্তরের বইয়ের সংখ্যা ২৪ কোটি ৪১ লাখ। জানা গেছে, মাধ্যমিকের পাঠ্যবই মুদ্রণের কার্যাদেশ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেয়া হলেও প্রাথমিকের বই ছাপানোর জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে গত ৫ থেকে ৮ অক্টোবর। মাধ্যমিকের বইতে প্রচ্ছদের পেছনে দেয়ার জন্য ৭১টি ছবি বাছাই করে চূড়ান্ত করা হয়েছে মাত্র গত রোববার। সে দিন থেকেই মুদ্রণ কাজের সময় হিসাব করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দরপত্রের শর্ত মোতাবেক, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রাকররা এ কাজে সময় পেয়ে থাকেন ৮৪-৯৮ দিন। এর আগে তারা পাঠ্যবই ছাপিয়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায় না। আরো জানা যায়, এবার মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ের মান তদারককারী যে প্রতিষ্ঠান, তারা এর আগে কোনো বড় ধরনের সরকারি কাজ করেননি। আর প্রাথমিকের বইয়ের মুদ্রণমান তদারকির দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের তারা দ্বিতীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের দরপ্রস্তাবের পরিমাণ প্রথম দরদাতার চেয়ে ২৫ লাখ টাকা বেশি। তারা ২০১৭ সাল থেকেই প্রাথমিক বা মাধ্যমিকের বই তদারক করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে মান-তদারককারীরা নির্ধারিত নিয়মকানুন মানলেও এ বছর মানছে না। জানা গেছে, তারা সক্ষম না হওয়ায় মুদ্রাকররা একত্রে বেশি কাগজ কিনতে পারছেন না। তা ছাড়া কর্মীদের অদক্ষতায় বহু কাগজের অপচয় ঘটছে। আসলে যেসব প্রতিষ্ঠান এবার এই বইয়ের কাজ পায়নি, তাদের থেকেই এ কাজে নিয়োগ করা হয়েছে অস্থায়ী জনবল। অপর দিকে, বইয়ের কাগজ পরীক্ষা করে অনেক সময় বিলম্বে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। একজন মুদ্রাকরের অভিযোগ, কাগজের ছাড়পত্রের জন্য যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে পাঁচবার আবেদন জানাতে হয়, তা হলে ২০-২৫ দিন সময় চলে যায়। আগে প্রেসের চলন্ত মেশিন থেকে বইয়ের নমুনা নিয়ে পরীক্ষার কাজ করা হতো। এবার তা বন্ধ করে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদনের হার হ্রাস পাচ্ছে এবং সময় বেশি লাগছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে কেউ দাবি করেছেন, এবার প্রাথমিকের সর্বনিম্ন দরদাতার কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় আমরা কাজ পেয়েছি। কেউ বলেন, ‘আমাদের সর্বপ্রকার সক্ষমতা রয়েছে।’ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দু’জন কর্মকর্তা মান তদারকির অনিয়মে জড়িত বলে কথা উঠেছে।
আমরা আশা করি, ইতঃপূর্বে যাই ঘটুক না কেন, নির্ধারিত দিনে ‘বই উৎসব’ নিশ্চিত করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করবে।


আরো সংবাদ