৩০ নভেম্বর ২০২০
ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলা

এ কাণ্ড ধর্ষকদের পক্ষে যাবে

-

দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন, আইনকানুন কিছুই ধর্ষকদের রোধ করতে পারছে না। ক্ষমতার সাথে এসব দুর্বৃত্তের সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে। ধর্ষকামে যারা উৎসাহিত হচ্ছে; তারা দেখছে, তাদের সমচরিত্রের অনেক লোক সমাজে প্রভাবশালী। এ কারণে তাদের কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। তাদের মাথার ওপর রয়েছে ক্ষমতার রাজনীতির ছাতা। ধর্ষকের শাস্তি দিতে সরকার মৃত্যুদণ্ডের আইন করার পরও মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না। আইন নিয়ে কারো আপত্তি নেই। আপত্তি আইনের প্রয়োগ নিয়ে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আগে থেকে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। ওই অপরাধের বিচার দূরে থাক, উল্টো তাদের প্রভাব ও অন্যায় কর্মকাণ্ড বাড়াতে তা ব্যবহৃত হয়েছে। ধর্ষণ প্রতিরোধে চলতি আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
ঢাকার শাহবাগ থেকে লংমার্চের আয়োজন করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের উদ্দেশে শুক্রবার সকালে যাত্রা করে। গত শনিবার ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে। ওই সময় তারা দুই দফায় হামলার শিকার হয়। প্রথমে শহীদ মিনারে পুলিশের সাথে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে সমাবেশ শেষে নোয়াখালীর দিকে যাত্রার সময় কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ওঁৎ পেতে থাকা একদল তরুণ লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লংমার্চকে স্বাগত জানাতে দাগনভূঞায় অপেক্ষমাণ একদল আন্দোলনকারীর ওপর হামলা চালানো হয়। ফলে নির্ধারিত পথসভা না করে তারা নোয়াখালীর দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়। গাড়িবহরে ভাঙচুর করা হয়। মাইকের তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। উপর্যুপরি হামলায় লংমার্চে অংশগ্রহণকারীসহ ২০ জন আহত হয়। লংমার্চের আয়োজকদের পক্ষ থেকে হামলার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানোর পর থেকে শাহবাগে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করে আসছিল। বর্তমান ধর্ষণ উপযোগী পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তারা জোরালো আওয়াজ তুলেছে। সংখ্যায় তারা বেশি না হলেও তাদের কর্মসূচির প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে; তা সহজে অনুমেয়। এই আন্দোলনে অনেকে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। রাজধানীসহ সারা দেশে ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিভিন্ন নীতি আদর্শের মানুষ একমত পোষণ করছেন দেশ থেকে ধর্ষণ নির্মূল হোক। নিজেদের মধ্যে বিভক্তির কারণে দেশে অপরাধীরা যাতে এমন কোনো সুযোগ পেয়ে না যায়, যাতে তারা অনাদিকাল দেশে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ চালিয়ে যেতে পারে। আন্দোলনকারীরা ৯ দফা দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ১৯ অক্টোবর বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ ও ২১ অক্টোবর রাজপথ অবরোধ।
ধর্ষকদের দৌরাত্ম্য রুদ্ধ করতে জাতীয় ঐকমত্য বড়ই প্রয়োজন। রাজনৈতিকভাবে মানুষ বিভিন্ন মত পথে বিভক্ত। কেউ ধর্ষকদের সমর্থক হতে পারেন না। আমরা রাজপথে অতি বাম ও অতি ডান উভয়পক্ষকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার দেখছি; অর্থাৎ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কেউ সহ্য করবেন না। সে জন্য মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই একই দাবিতে রাজপথে সোচ্চার হয়েছেন, যাতে ক্ষমতার ছাতা ধর্ষকদের মাথার ওপর থেকে সরে যায়। এ ধরনের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নেবেন এটি বিশ্বাস করা কষ্টসাধ্য।
ফেনীতে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলে কারো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তাদের বিরুদ্ধে ঠুনকো অভিযোগে হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাবনার উদয় হওয়া জরুরি; তাদের কোনো কর্মকাণ্ড যেন ধর্ষকদের পক্ষে না যায়। যারা ধর্ষকামে অভ্যস্ত তারা আশকারা না পায়। আমরা আশা করব, দেশ থেকে ধর্ষণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সচেতন মানুষ কেউ এ ধরনের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন না।


আরো সংবাদ