৩০ নভেম্বর ২০২০
শতবর্ষী বাংলাদেশী ব্রিটেনে সম্মানিত

করোনা প্রতিরোধে সবার প্রেরণা

-

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর বয়স হয়েছে এক শ’ বছর। চুল-দাড়ি তো বটেই, তার চোখের ভ্রƒ পর্যন্ত বয়সের কারণে পেকে ধবধবে সাদা হয়ে গেছে। শ্বেতশুভ্র শ্মশ্রুশোভিত এবং টুপি পরিহিত এই শতবর্ষী বৃদ্ধ মানুষটি করোনাভাইরাসজনিত এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া, অতিমারী ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধের সংগ্রামে স্মরণীয় হয়ে রইবেন। কারণ, তিনি এত বছর বয়সেও পবিত্র রমজান মাসে পূর্ব লন্ডনে তার বাগানে হেঁটেছেন ৯৭০ কদম আর এভাবে সংগ্রহ করেছেন চার লাখ ২০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে করোনার কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে। এমন অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক দবিরুল ইসলাম ভূষিত হলেন রানী এলিজাবেথের জন্মদিনের সম্মাননায়। মানবসেবার সুমহান স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন অর্ডার অব দি ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) উপাধি।
পত্রপত্রিকার খবরে জানা যায়, গত মাহে রমজানে দবিরুল ইসলাম চৌধুরী পূর্ব লন্ডনের বো এলাকায় নিজ বাগানে ৯৭০ কদম হেঁটে উপরে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এ বছর ২৩ এপ্রিল থেকে এক মাস ছিল পবিত্র রমজান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীরসেনা স্যার টম মূর এপ্রিল মাসে তার শততম জন্মদিনের প্রাক্কালে এক শ’ কদম হেঁটে এক হাজার পাউন্ড তুলেছিলেন। এতে অনুপ্রেরণা পেয়ে দবিরুল ইসলামও সমসংখ্যক কদম হেঁটেছেন। দবিরুল সাহেব যে অর্থ জোগাড় করেছেন, এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড দান করেছেন ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে। বাকি অর্থ ৫২টি দেশের দাতব্য সংস্থাকে দেয়া হয়েছে। এটা করা হয় কোভিড-১৯ সঙ্কট মোকাবেলার উদ্দেশ্যে গঠিত ‘রমজান ফ্যামিলি কমিটমেন্ট’ নামের উদ্যোগের আওতায়। ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ‘চ্যানেল-৫’ টিভির উদ্যোগে এটি গঠিত। দবিরুল ইসলামের ছেলে দুঃখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকেই এমন মহতী কাজের স্বীকৃতি দেন না।’ তার বক্তব্য, ‘আমাদের এই অবদান যারা কোভিডের শিকার হয়েছেন, তাদের সবার জন্য উৎসর্গিত। বাবার কাজ শেষ হয়নি। কোভিড আক্রান্ত মানুষের জন্য সাহায্য সংগ্রহের কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।’ লন্ডনের বিখ্যাত ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা আরো জানিয়েছে, দবিরুল ইসলামের এই সন্তান বলেছেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা গৌরবজনক এবং আমার বাবার এই স্বীকৃতি অর্জন সম্মানের বিষয়।’
উল্লেখ্য, দবিরুলের জন্ম সুনামগঞ্জে, ১ জানুয়ারি, ১৯২০ সালে। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ওপর অধ্যয়নের জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। পরে সেখানে কমিউনিটি লিডার হিসেবে তহবিল সংগ্রহ ছাড়াও বহু সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। তিনি একজন কবিও। তার রচিত কয়েক হাাজার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে, ব্রিটেনের লেবার পার্টির অন্যতম নেতা কির স্টার্মার এক টুইটবার্তায় দবিরুল ইসলামের প্রশংসায় বলেছেন, ‘তার তহবিল সংগ্রহের অবিশ্বাস্য প্রয়াসের জন্য অভিনন্দন।’
আমরাও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শতবর্ষজীবী এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্বের প্রতি অভিনন্দন জানাই। আমাদের সবার গর্ব তিনি। ১০০ বছর বয়সেও বিপন্ন মানবতার জন্য তিনি যে অপরিসীম অবদান রেখেছেন, তা অন্যদের প্রেরণা জোগাবে। দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর এই প্রয়াস প্রমাণ করেছে, দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে ভালো কাজ করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তিনি শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটির নয়, তার জন্মভূমি এই বাংলাদেশের মানুষেরও মুখোজ্জ্বল করেছেন। এমন কল্যাণ প্রয়াস অব্যাহত থাকুক এবং এ রকম অসংখ্য মানবপ্রেমীর জন্ম হোকÑ এটাই আমাদের নিরন্তর কামনা।


আরো সংবাদ