২১ অক্টোবর ২০২০
সৌদি প্রবাসীর নির্ধারিত সময়ে ফেরা

সঙ্কট কাটাতে সাহায্য করুন

-

করোনা মহামারীতে সারা বিশ্বের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি যতটুকু স্থিতিশীল আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর প্রধান কারণ প্রবাসী আয়। মহামারীর মধ্যেই আমাদের প্রবাসী আয় রেকর্ড গড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছেন, তাদের প্রতি আমরা সুবিচার করতে পারছি না। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি তাদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের লাশ বাংলাদেশ বিমান বহন করতে পারবে না এমন কথাও বলা হয়েছে। সর্বশেষ আমরা দেখলাম, সৌদি প্রবাসীর চরম ভোগান্তির দৃশ্য। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত তারা রাজপথে নেমে এসেছেন। অথচ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা সময় থাকতে উদ্যোগী হলে তাদের এমন ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হতো না।
মহামারীর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৮০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। নির্ধারিত সময়ে তাদের সৌদি আরবে গিয়ে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ছুটিতে আসা কর্মীদের তিন দফায় মোট সাত মাস ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। সর্বশেষ, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের কাজে যোগদান করতে বলা হয়েছে। এই সৌদি প্রবাসীদের মধ্যে ৫০ হাজার প্রবাসীর ভিসা ও ইকামার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের রয়েছে চারটি ফ্লাইট। অন্য দিকে ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সে দেশে চালানোর অনুমোদন পাওয়া গেছে। সেটি রিয়াদ ও জেদ্দায় সপ্তাহে চারটি ফ্লাইটের বেশি নয়। আন্দোলনের মুখে জানা যাচ্ছে, সৌদি সরকার ৩০ সেপ্টম্বর যাদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তাদের জন্য আরো ২৪ দিন সময় বাড়িয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেকের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ অক্টোবরে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। মাত্র এক মাসের মধ্যে যে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে দেশটিতে ফিরতে হবে সে তুলনায় ফ্লাইটের সংখ্যা একেবারে নগণ্য। আমরা যদি ধরে নিই, সৌদি সরকারের বাড়ানো ২৪ দিনে ৬০ হাজার প্রবাসীকে সে দেশে ফিরতে হবে তাতে দিনে আড়াই হাজার বাংলাদেশীকে সে দেশে যেতে হবে। এ জন্য দরকার দিনে নিয়মিত ১০টি করে ফ্লাইট। করোনা মহামারীর আগে ঢাকা থেকে সৌদি এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করত। এখন দিনে মাত্র দু’টি ফ্লাইট চালাচ্ছে। এ অবস্থায় সৌদিফেরত প্রবাসীরা দিশেহারা। তারা হন্যে হয়ে টিকিটের জন্য ঘুরছেন। এর সুযোগ নিচ্ছে দালাল চক্র। অনেকের ফিরতি টিকিট কেনা থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সে দেশে যাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩০ হাজার টাকা দামের টিকিট দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অনেকে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে টিকিট কিনতে পারলেও বেশির ভাগ প্রবাসী যাওয়ার ব্যাপারে রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব। দেশটির সাথে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রবাসীদের ফিরে যাওয়া নিয়ে যে সঙ্কট সেটি সরকারের না জানার ব্যাপার নয়। এ সঙ্কট কাটানোর জন্য সময়মতো সরকার পদক্ষেপ নিলে এতগুলো মানুষকে এ বিপদের মধ্যে পড়তে হতো না। একেবারে শেষকালে এসে যখন প্রবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন প্রশাসন তখন সক্রিয় হয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কাজে যোগদানের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু যাত্রী পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আমরা মনে করি, সরকার চাইলে ৫০ হাজার প্রবাসীর নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরব ফিরে যাওয়া সম্ভব। বিমান বাংলাদেশ-এর ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো যায়। একই সাথে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রবাসীদের সে দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়। প্রবাসীদের ভোগান্তি ও উদ্বেগ কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এ সঙ্কটের সুরাহা করা সরকারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আশা করা যায়, সরকার কূটনীতিক চ্যানেলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে এর সমাধান করবে।

 


আরো সংবাদ