২১ অক্টোবর ২০২০
দীর্ঘসূত্রতার শিকার কপিরাইট আইন

মেধাস্বত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন

-

প্রকাশনা ও শিল্পকর্মসহ ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সৃজনশীল কাজে এর প্রণেতা, রচনাকারী বা সৃজনকারীর যথাযথ অধিকারকে স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দেয়ার জন্যই কপিরাইট আইনের প্রয়োজন। এ ছাড়া, সৃজনশীলতার সুবাদে প্রাপ্য আয় দীর্ঘমেয়াদে পাওয়ার জন্যও আইনি ও নৈতিক অধিকার কায়েম করা যায় আইনটির দ্বারা। চালু রয়েছে ‘বাংলাদেশ কপিরাইট আইন-২০০০’ যা এর ৫ বছর পরই একবার সংশোধন করা হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ডিজিটাল মেধাস্বত্বের অনেক সমস্যার সুরাহা করা যাচ্ছে না। তবে আইনের সংশোধন সত্ত্বেও তা চূড়ান্ত অনুমোদনের অভাবে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
একটি জাতীয় দৈনিকে এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করে এ বিষয়ে আরো সময়ক্ষেপণ না করার জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। কারণ তাহলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হারাতে পারে উপযোগিতা।
জানা যায়, ২০১৭ সালে শুরু করে প্রায় দুই বছর যাবৎ বেশ কয়েকটি কমিটি প্রচলিত কপিরাইট আইন সংশোধন করেছে। ২০১৯ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে তা জমা দেয়ার পর যেখানে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা, সেখানে রহস্যজনকভাবে চলছে সময়ক্ষেপণ। আইন মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনেক দিন কেটে গেছে। চলমান মহামারীর ঠিক আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে সংশোধনটি পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। অপর দিকে, ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, আলোচ্য আইনে কপিরাইটের সংজ্ঞা সহজ করা ছাড়াও সময়ের উপযোগী বেশ কয়েকটি উপধারা সংযোজিত হয়েছে। টাস্কফোর্সকে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিছু জটিল ধারাকে সহজ করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কপিরাইটজনিত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লোকসংস্কৃতিকে দেয়া হয়েছে প্রাপ্য গুরুত্ব। সচেতনতা তৈরি করার উদ্যোগও আছে কপিরাইটের ব্যাপারে। ডিজিটাল মিডিয়ায় যাতে প্রণেতা উপেক্ষিত না হন এবং সংশ্লিষ্ট আয়ে তারও অধিকার থাকে, তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে এই আইনের সংশোধনীতে। এর পাশাপাশি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তন এই অর্থে ‘অসামান্য’ যে, আলোচিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর লক্ষ্যার্জনে সবার জন্য ‘একীভূত শিক্ষা’ নিশ্চিত করায় এটি সহায়ক। তা ছাড়া আলোচ্য আইনে কপিরাইট অফিস শক্তিশালী করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি, হয়রানি রোধ, প্রয়োজনে মালামাল ত্বরিত জব্দ করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের খসড়াতে এর লঙ্ঘনের শাস্তি বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড পর্যন্ত করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘ডিজিটাল দেশ, উদ্ভাবন, মেধা প্রভৃতির কথা বললেও এ জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে না। মাদ্রিদ প্রটোকলে বাংলাদেশ আজো স্বাক্ষর করতে পারেনি। গীতিকার, সুরকার, লেখক, শিল্পী, ডিজিটাল প্রযুক্তি কিংবা সফটওয়্যার নির্মাতার পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা এখনো নিশ্চিত হয়নি। কিন্তু এটা ছাড়া কোনো শিল্প গড়ে উঠবে না। তাই খুব শিগগিরই কপিরাইট আইনের সংশোধন কার্যকর হওয়া দরকার।’ এই আইন সংশোধনের সাথে জড়িত মহল জানায়, এ আইন কয়েক বছর পরপর বদলাতে হয়। যেমন, তাইওয়ানে দু’বছর অন্তর কপিরাইট সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়। আমাদের দেশে আইনটি দীর্ঘ দিন পর সংশোধন সত্ত্বেও আলোর মুখ দেখছে না। অথচ এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আমরা মনে করি, বিশেষত সৃজনশীলতার সুরক্ষা এবং ডিজিটাল উন্নয়নের স্বার্থে মেধাস্বত্বের নিরাপত্তা জরুরি। এ জন্য অবিলম্বে কপিরাইট আইনটি প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বাস্তবায়িত হওয়া আবশ্যক।

 


আরো সংবাদ