১৪ জুলাই ২০২০
চিকিৎসা পাচ্ছেন না গুরুতর রোগীরা

সমন্বয় নেই হাসপাতালের মধ্যে

-

আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গিন অবস্থা প্রকাশ হয়ে পড়ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা ঠিকভাবে সামলাতে পারছে না আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ঠিক এই সময়ে যারা কোভিড-১৯ ছাড়া অন্যান্য অসুখে পড়ছেন তাদের চিকিৎসা দেয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা করোনার লক্ষণ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছেন তারা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার অন্তত দু’জন গুরুতর রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা নিতে না পেরে মারা গেছেন। করোনা হয়েছে কি না এটা জানাও এখন দুরূহ একটা ব্যাপার। আবার করোনার চিকিৎসাধীন রোগীরাও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় দেশে করোনার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যাও। হাসপাতালগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় করোনায় আক্রান্ত মানুষ যেমন চিকিৎসা পাচ্ছে না তেমনই অন্য রোগীরাও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সিলেটের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে। তিনি সিলেট শহরের কুমার পাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন খোকা। তার ছেলে জানান, তিনি হাসপাতালগুলোতে ঘুরে কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে তার বাবাকে চিকিৎসা দেয়ার অনুরোধ জানান। খোকা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। একটু অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য চিকিৎসকদের কাছে কাকুতিমিনতি করেন খোকার ছেলে। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনটি হাসপাতালে তিনি কোনো সাড়া পাননি। সেগুলো থেকে কেউ এ মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সামান্য তাগিদ অনুভব করেননি। সর্বশেষ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে এসে তিনি কিছুটা সাড়া পেয়েছেন। ততক্ষণে তার বাবা প্রাণ হারান। হাসপাতালের ডাক্তাররা করোনা সন্দেহে তাকে চিকিৎসা করাননি। একই দিন কুষ্টিয়া থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আগত এক রোগী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। স্ত্রী রিনা ইসলাম তার স্বামীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে পাগলের মতো ঘুরেছেন। কোথাও তিনি স্বামীর জন্য সামান্য চিকিৎসাসুবিধা পাননি। স্ত্রীর সামনে স্বামী নূর আহাদ যন্ত্রণায় ছটফট করে মারা যান।
রোগীর প্রতি সাড়া দেয়া হাসপাতালের একটা সাধারণ ও স্বাভাবিক দায়িত্ব। যদি কোনো হাসপাতাল একজন রোগীকে চিকিৎসা দিতে অপারগ হয় তাহলে সেই হাসপাতাল রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করতে পারে। করোনাকালে মুমূর্ষু রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে হাসপাতালগুলো দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ের যে দায়িত্ব সেটিও যে সঠিকভাবে হচ্ছে না তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। করোনা রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে হয়। বেশির ভাগ হাসপাতালে যথেষ্ট অক্সিজেন নেই। স্বজনরা রোগী হাসপাতালে রেখে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য দৌড়াচ্ছেন। অন্য দিকে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার সুযোগে এর দাম জায়গা ভেদে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আবার অনেকে সঙ্কটের সময়ে পাওয়া যাবে না আশঙ্কায় আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখছেন। এ অবস্থায় অনেক রোগী জরুরি অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্ট পাচ্ছেন না।
গুরুতর রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে যে সেবা পাওয়ার কথা সেটি তারা পাচ্ছেন না। এমনকি যারা অর্থবিত্তের মালিক তারাও বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিজেদের জন্য সেবার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। আমরা মনে করি, এর জন্য মোটাদাগে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি দায়ী। চিকিৎসা দেয়ার আমাদের যে সামর্থ্য শৃঙ্খলার অভাবে তা ঠিকমতো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না হলে হাসপাতালগুলোর মধ্যে সমন্বয় হবে না। এ ধরনের সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অচিরেই স্বাস্থ্য বিভাগকে সক্ষম করতে হবে, আনতে হবে সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে। 


আরো সংবাদ