৩০ মে ২০২০
ফাঁকা ঢাকায় চুরি ডাকাতির আশঙ্কা

সুযোগ নিতে পারে অপরাধীরা

-

বৈশ্বিক মহামারী রূপ পাওয়া করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণার পর বাংলাদেশে এর সংক্রমণ ঠেকাতে আগে বন্ধ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর পরও ভাইরাসটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গণপরিবহন প্রভৃতি। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ ছুটি চলায় কার্যত রাজধানী এখন অবরুদ্ধ এবং সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আর নগরবাসী ঘরে অবস্থান করায় পুরো ঢাকা একেবারে ফাঁকা। চার দিক খাঁ খাঁ করছে। জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ছাড়া মানুষ বাইরে বেরোচ্ছে না। সড়কে নেই যানবাহন। নগরজুড়ে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন; তবু রাজধানীবাসীর শঙ্কা ঢাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে যেতে পারে। তাদের মনে ভর করেছে সেই আতঙ্ক।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে গত এক মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ অর্ধেকে নেমেছে। করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অপরাধীদের মধ্যেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে। তার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। করোনা আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে কোনো মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটাতে পারে, সে জন্য পুলিশের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করণীয় নিয়ে পুলিশ সদর দফতরে আইজিপির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে পুলিশ। সব এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল রয়েছে। এর মধ্যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ নেই। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তাদের জেরার মুখে পড়তে হবে। অপরাধ সংঘটিত হতে হলে ভিকটিম, স্থান ও সময় প্রয়োজন। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের মহামারী প্রতিরোধে প্রায় সবার ঘরে অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে চুরি ডাকাতি না করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে।’
রাজধানীর চিরচেনা রূপ যেন একেবারেই অচেনা। ঈদ বা অন্য বড় ছুটিগুলোতেও ঢাকার ফুটপাথে থাকে হকারদের পসরা। অথচ এবারের সাধারণ ছুটিতে দু-একজন পথচারী ছাড়া লোকজনের দেখা মেলা ভার। দেখা যাচ্ছে না কোনো যানবাহন। রাস্তাগুলো মানবশূন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দু-একজন সদস্য ছাড়া পুরো এলাকা ফাঁকা। ওষুধ, মুদির দোকান ও কাঁচাবাজার নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত। তবু সন্ধ্যার আগেই সব দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় ফিরছেন দোকানিরা। তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, রাতে যদি শাটার ভেঙে চুরি হয় তা হলে পথে বসতে হবে। ভয় আর দুশ্চিন্তা নিয়ে রাত শেষে সকাল হয় তাদের। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ সেগুলোর বহু মালিক অনেক দূরে বাসা হলেও দিনে একবার দেখে যাচ্ছেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান।
পুলিশের তরফ থেকে নগরবাসীকে যতই আশ্বস্ত করা হোক না কেন, তাতে অনেকেরই আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকাবাসী দেখেছেন, অতীতে বড় ছুটির দিনগুলোতে চুরি ডাকাতির ঘটনা বেশি হয়েছে। কারণ দুর্বৃত্তরা সব সময় মানুষের অসহায়ত্ব ও বিপদ-আপদকে নিজেদের অপকর্ম হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ মনে করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে, তবু নাগরিকদের আশঙ্কাকে আমলে নিয়ে তারা অধিকতর সচেতন হওয়া উচিত ।


আরো সংবাদ