২৬ নভেম্বর ২০২০
শ্রমজীবীদের জীবিকা হুমকিতে

রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে

-

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় দেশে দেশে দরিদ্র জনগণকে সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিচ্ছে সরকারগুলো। কোথাও বাড়িভাড়া, কিংবা ট্যাক্স মওকুফ করা হচ্ছে। কোথাও দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা খরচ। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসরকার দরিদ্রদের জন্য রেশনে খাবার, বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ এবং বাড়িভাড়া পরিশোধের বিষয়ে সাহায্যের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তো সাত কোটি ৮৫ লাখ মানুষকে দুই টাকা মূল্যে চাল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্যসরকার। ইতোমধ্যে করোনার তীব্র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমাদের দেশের অর্থনীতিতেও। নিম্নœ আয়ের মানুষ এবং শ্রমজীবীদের জীবিকায় ক্রমেই এর প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। তারা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। দিন যতই গড়াচ্ছেÑ প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর আয়-রোজগারের সব পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উপার্জন কমে যাওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় শূন্য। তাদের জীবনধারণ খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
দেশের প্রচুর মানুষ কাজ করেন গার্মেন্ট কারখানায়। বাংলাদেশী তৈরী পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ-আমেরিকা। করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় ইউরোপ-আমেরিকায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিমাণ বাড়বে। খবরে প্রকাশ, প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে; যা দেশীয় মুদ্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২২টি কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। প্রায় চার হাজার কারখানার মধ্যে এক হাজার ৮৯টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এক দিকে ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে, অন্য দিকে নতুন ক্রয়াদেশও আসছে না। এ অবস্থা আরো কিছু দিন চলতে থাকলে এমনিতেই অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। সে রকম হলে পোশাক খাতের লাখ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়তে পারেন। এক পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিক গাদাগাদি করে কাজ করেন এবং অস্বাস্থ্যকর জনঘনত্বে বাস করেন।
করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। গণপরিবহনও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা অতিশয় ছোঁয়াচে হওয়ায় পোশাককর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গার্মেন্ট কারখানা বন্ধের দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজ। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় করোনার সংক্রমণ তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দ্বিমুখী সঙ্কটে পড়েছে দেশের তৈরী পোশাক খাত।
সরকার দেশে করোনা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অফিস-আদালতে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণাও শ্রমজীবীদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর ১০ দিন পর কী হবে; তা-ও কারো জানা নেই। এ ছাড়া মানুষজনকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমজীবীরা কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন তার উপায় না বাতলালে তারা কাজের খোঁজে বাইরে বের হবেনÑ এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই এর উপায় বের করতে হবে। নিতে হবে জরুরি উদ্যোগ। সেইসাথে বেসরকারি পর্যায়ে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকেও এই আপৎকালে এগিয়ে আসতে হবে। এটিই মানবতা। তাহলেই প্রমাণ হবে মানুষ মানুষের জন্য।


আরো সংবাদ