২৯ মার্চ ২০২০
বিচ্ছিন্নকরণ কৌশল ও বিপদ

সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি দরকার

-

ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ভাইরাস করোনা মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পথ পন্থা কেউ বলতে পারছেন না। তবে কিছু সতর্কতামূলক অগ্রিম ব্যবস্থা এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারে বলে অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এ ধরনের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে মাদারীপুরের শিবচর থানায় এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরো কিছু এলাকা বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে। ২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে এমনিতেই মানুষের চলাফেরা, কাজকর্ম সীমিত হয়ে গেছে। আরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাতে সন্দেহ নেই। তবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাপক উদ্যোগ ও প্রস্তুতি মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
ভাইরাসটি চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়েছে। এখন চীনে এর স্থানীয় সংক্রমণ বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করছে দেশটি। এ সফলতার অন্যতম কারণ জানা যাচ্ছে, ‘বিচ্ছিন্নকরণের’ কৌশল। তারা পুরো প্রদেশটি বাকি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। একইভাবে প্রদেশের ভেতরে পুরো অঞ্চলের মানুষকে ঘরের ভেতরে আবদ্ধ করা হয়েছিল। সংক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কড়াকড়িভাবে তারা এ নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছিল। ইউরোপে ব্যাপকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে সময়মতো ‘বিচ্ছিন্নকরণ’ কৌশল কাজে না লাগানোর বিষয়টি। সরকারের ঘোষিত লকডাউনকে সাধারণ মানুষ গুরুত্বের সাথে নেয়নি ইউরোপে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে অগ্রিম পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে। ইতোমধ্যে অনেক কিছু করার ছিল, সরকার করতে পারেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এ দেশে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই অবস্থা বুঝে এই পথেই সরকার অগ্রসর হবে। বিচ্ছিন্নকরণের মতো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা, সাবধানতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। কারণ নাগরিকদের একটা বিশাল অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তাদের বেশির ভাগ দিনের উপার্জন দিনে করেন। এ ধরনের বিচ্ছিন্নকরণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের অবস্থা হবে শোচনীয়। কারণ তারা উপার্জন করতে না পেরে দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্যও সংগ্রহ করতে পারবে না। ইতোমধ্যে অনেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মজুদ করেছেন। এর প্রভাব বাজারে পড়েছে। অনেক জিনিসের দামই এখন বাড়তি। চীনে একটি শক্তিশালী সরকার কায়েম রয়েছে। তাদের আরোপিত বিধিবিধান সেখানে মানুষ যথাযথভাবে পালন করেছে। এর পাশাপাশি দেশটি তাদের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছিয়েছে। আমাদের দেশে ঢাকার মতো বিশাল শহরে এ ধরনের বিচ্ছিন্নকরণের সিদ্ধান্ত নিতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রস্তুতি দরকার। বিশেষ করে দুর্যোগ অবস্থায় যাতে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় সে দিকে নজর দিতে হবে।
যেকোনো সঙ্কটের সময় সৃষ্টি হওয়া ভীতি মূল সমস্যার চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে; যাতে ভীতি না ছড়িয়ে বাস্তব অবস্থা মানুষ জানতে পারে। এখন পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকার প্রকৃত তথ্য মানুষকে জানাতে পারেনি। অন্য দিকে মিডিয়া যেভাবে বিপুল খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে সেখানে আতঙ্কিত হওয়ার উপাদান রয়েছে। এখন ত্বরিতগতিতে সরকারকে কাজ করতে হবে। সরকারের একটা সুযোগ রয়েছে, তারা অন্যান্য দেশ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।


আরো সংবাদ