০৯ এপ্রিল ২০২০
চলন্ত ট্রেন পেছনে রেখে সেলফি

সামাজিক মাধ্যমের কুপ্রভাব

-

আগে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধব ও নিকটাত্মীয়দের সাথে মানুষ নিজেদের সুখ দুঃখের অনুভূতি ভাগাভাগি করেছেন। মানুষ এর মাধ্যমে স্বস্তি ও শান্তি খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এভাবে নিজেদের মধ্যে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের একটা বড় ব্যাপ্তি ছিল। ইন্টারনেট আসার পর মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার চিত্রটি পুরোই পাল্টে গেল। মানুষে মানুষে যোগাযোগ হয়ে গেল ভার্চুয়াল। মানুষের আত্মপ্রকাশের আকাক্সক্ষা হয়ে গেল লাগামহীন। নিজেকে প্রকাশ করতে গিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ‘সেলফি’ নামের নিজের ছবি তোলা ও প্রচারের রীতিমতো জোয়ার চলছে। সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকে মাত্রাজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে তরুণরা উদ্ভট সব সেলফি সংস্কৃতি চালু করেছে। এ কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেকে প্রাণ হারাচ্ছে। সর্বশেষ ঢাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ সেলফি তুলতে গিয়ে এক স্কুলছাত্র ট্রেনে কাটা পড়েছে।
রূপগঞ্জের এক স্কুলছাত্র রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে গত রোববার বন্ধুদের নিয়ে সে ঘুরতে বেরিয়েছিল। কুড়িল বিশ্বরোডের ধার দিয়ে যাওয়া রেললাইনের ওপর বন্ধুদের সাথে সেলফি তোলে। একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেন পেছনে রেখে সেলফি তুলছিল দুই বন্ধু। সেলফি তুলে তারা রেললাইন থেকে সরে যেতে পারেনি। দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় তারা ছিটকে পড়ে। হাসপাতালে ইমরান নামের ছাত্রটি মারা যায়। সাথের অন্য বন্ধুটি আহত হয়। সেলফি তুলতে গিয়ে এর আগেও আমাদের দেশে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে আরো অনেক দুর্ঘটনাও। শুধু সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত কয়েক শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
স্কুলছাত্র ইমরান ব্যতিক্রমী কিছু করতে চেয়েছে। কারণ সে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এতে বেশি লাইক পেতে চায়। সাধারণ কোনো কিছু দিয়ে খুব বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় না। তাই চলন্ত ট্রেন পেছনে রেখে চরম ঝুঁকি নিয়ে সেলফিটি সে তুলেছে। একই ধরনের প্রচেষ্টার অনেক পোস্ট আমরা ফেসবুকে দেখতে পাই। লাইনের মাঝখানে লেপ্টে শুয়ে থেকে উপর দিয়ে চলন্ত ট্রেন চলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ দৃশ্যও ফেসবুকে দেখা গেছে। অদ্ভুত-উদ্ভট কাণ্ডকারখানা মানুষ করছে। সামাজিকমাধ্যমে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়।
পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ জালের মধ্যে এসে গেছে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয়নি। নেতিবাচক প্রবণতা রোধে আচরণবিধি প্রণীত হয়নি। শিশু তরুণ ও যুবকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব বেশি। সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতি সীমিত করতে দরকার জনসচেতনতা। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


আরো সংবাদ

সেই প্রিয়া সাহা করোনায় আক্রান্ত! (৫০৮৩৩)নিজ এলাকায় ত্রাণ দিয়ে ঢাকায় ফিরে করোনায় মৃত্যু, আতঙ্কে স্থানীয়রা (৪৪৬১১)বেওয়ারিশের মতো সারা রাত সঙ্গীতশিল্পীর লাশ পড়েছিল রাস্তায় (২৬৭২১)দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (২০২৫৬)করোনা ছড়ানোয় চীনকে যে ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়ার দাবি উঠল জাতিসংঘে (১৬৩৮৯)কাশ্মিরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহত ভারতীয় দুর্ধর্ষ কমান্ডো দলের সব সদস্য (১৫৫২৩)রোজার ঈদের ছুটি পর্যন্ত বন্ধ হচ্ছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (১৩০৭৯)করোনার লক্ষণ নিয়ে নিজের বাড়িতে মরে পড়ে আছে ব্যবসায়ী, এগিয়ে আসছে না কেউ (১২৮০৫)ঢাকায় নতুন করে ৯টি এলাকা লকডাউন (১০৬৪৩)সবচেয়ে ভয়াবহ দিন আজ : মৃত্যু ৫, আক্রান্ত ৪১ (১০০৬১)