০৪ এপ্রিল ২০২০
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ

পুরো প্রক্রিয়া বদলাতে হবে

-

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও-না-কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। একেকটি দুর্ঘটনায় নিঃশেষ হচ্ছে অন্তত একটি পরিবার। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরছে প্রাণ। গত শুক্রবারও গোপালগঞ্জের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস ও নসিমন সংঘর্ষে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ৫৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত ১১৪১ জন। গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ সংযোগ সড়কে হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে হয়েছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন নতুন করে সংস্কারের পরও দুর্ঘটনা কমছে না। কঠোর আইনেও সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। আগের মতোই চালকরা বেপরোয়া।
২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দু’জন শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হয়। ওই ঘটনার পর সারা দেশে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে নজিরবিহীন আন্দোলন গড়ে তোলে। তখন পরিবহন খাতের বিভিন্ন স্তরে বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে উঠে আসে। সরকারেরও টনক নড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তি সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন করেছে সরকার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে ‘নতুন সড়ক পরিবহন’ আইন গত বছরের পয়লা নভেম্বর থেকে কার্যক করার উদ্যোগ নেয়া হয়। শুরুতে আইনটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে হোঁচট খায় সরকার। ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নতুন সড়ক আইনের ৯টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চালকদের লাইসেন্স এবং যানবাহনের আকৃতি পরিবর্তন-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৮ সালে যে সড়ক পরিবহন আইন করা হয়েছে, একটি গোষ্ঠীর চাপে সেটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। যত দিন পর্যন্ত এই আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে না, তত দিন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর চাপ না থাকলে আইনটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে মানুষের ভুলে; আইন ও নিয়ম না মানায় কিংবা আইনের সঠিক প্রয়োগ না করায়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সবার আগে দরকার সঠিক তথ্য। কিন্তু সরকারের কাছে তা নেই। এ বিষয়ে তথ্যের উৎস পুলিশ। সড়ক দুর্ঘটনার পর মামলা হলেই কেবল পুলিশ তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে। ভুক্তভোগী কেউ মামলা না করলে কিংবা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেললে পুলিশের খাতায় কোনো তথ্য থাকে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত, ধরন ও কারণ প্রভৃতি বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় পরিকল্পনা প্রণয়নে ঘাটতি থেকে যায়। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির স্বার্থের কারণে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হয় না। এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না, সড়ক দুর্ঘটনায় যে ক্ষতি হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাকে জাতীয় সমস্যা মনে করে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উপযুক্ত মানসিকতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। তাই শুধু আইন পাস করলেই সড়ক দুর্ঘটনার মতো গুরুতর সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য চাই পুরো প্রক্রিয়ায় বদল।


আরো সংবাদ

আত্মহত্যার আগে মায়ের কাছে স্কুলছাত্রীর আবেগঘন চিঠি (১৩৫৩০)সিসিকের খাদ্য ফান্ডে খালেদা জিয়ার অনুদান (১২৬০৬)করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল (৯৩১৫)ভারতে তাবলিগিদের 'মানবতার শত্রু ' অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ (৮৪৯০)করোনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ইতালির একটি পরিবার (৭৮৬৪)করোনার মধ্যেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আরেক যুদ্ধ (৭১৪০)করোনায় আটকে গেছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষকের বেতন (৬৯৩১)ইসরাইলে গোঁড়া ইহুদির শহরে সবচেয়ে বেশি করোনার সংক্রমণ (৬৮৯০)ঢাকায় টিভি সাংবাদিক আক্রান্ত, একই চ্যানেলের ৪৭ জন কোয়ারান্টাইনে (৬৭৬১)করোনাভাইরাস ভয় : ইতালিতে প্রেমিকাকে হত্যা করল প্রেমিক (৬২৯৬)