১০ জুলাই ২০২০
বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্য মূল্যায়ন

৫৪ শতাংশ সীমার নিচে নামার ঝুঁকিতে

-

বিশ্বব্যাংক তাদের দারিদ্র্য সম্পর্কিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানিয়েছেÑ ২০১০-১৬ সময় পরিধিতে বাংলাদেশে ৮০ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি চারজনে একজন লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তা ছাড়া, এ দেশে যেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে, তা অসম। ঢাকায় দারিদ্র্য দ্রুত হারে কমলেও দেশের অন্যান্য স্থানে তা ঘটেনি।
গত সোমবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ কথাগুলো বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে অবিলম্বে। তবে অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য প্রকাশ করলে, সরকারপক্ষ তা তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রতিবেদনের ‘কোনো সত্যতা নেই’ বলে দায়িত্ব শেষ করে। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সমালোচনাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। উল্লিখিত রিপোর্টে বলা হলো, ‘দেশের দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা ৫৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’ যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় না নেয়ার অর্থ, বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। এ মূল্যায়নে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে, যেগুলো আমাদেরকে বিবেচনায় নিতে হবে অবশ্যই। এতে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশে জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য কমালেও দারিদ্র্য কমছে তুলনামূলকভাবে কম গতিতে। ২০১০ সাল থেকে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়লেও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে।
যেকোনো দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত সুষম দারিদ্র্য বিমোচন। এর অপর অর্থ, শহর ও গ্রামগঞ্জে দারিদ্র্য বিমোচন করা হবে সমহারে। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। আলোচ্য রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন চলছে অসমহারে। ২০১০ সাল থেকে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাগগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতির ‘ঐতিহাসিক’ পার্থক্য ফিরে এসেছে। রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে এবং রাজশাহী ও খুলনা একই রকম রয়েছে। অন্য দিকে, চট্টগ্রামে দারিদ্র্য কমেছে পরিমিতভাবে। আর বরিশাল, ঢাকা ও সিলেট বিভাগ তিনটিতে দ্রুত কমেছে। বিষয়টির প্রতি আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দেশের সব বিভাগে সমহারে দারিদ্র্য মোচনের জন্য। তা ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে মনে রাখতে হবেÑ ধনী যেন আরো ধনী না হয় এবং গরিব মানুষ যেন না হয় আরো গরিব। মোটকথা, ধনী-গরিবের পার্থক্য ক্রমেই কমিয়ে আনতে হবে। জোরদার করতে হবে আমাদের দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি। কারণ, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংক এক রিপোর্টে জানিয়েছিল, এ দেশের দুই কোটি ২১ লাখ মানুষ হতদরিদ্র পর্যায়ে রয়েছে।
আমরা সবাই চাই, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি আরো জোরদার হোক; পরিকল্পনাগুলো প্রণীত হোক আরো ভেবেচিন্তে। দেশের ভেতর ও বাইরের সবার পর্যবেক্ষণকে বিবেচনায় নিয়ে প্রণয়ন করতে হবে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি।


আরো সংবাদ

বাজেট বাস্তবায়ন : সদিচ্ছার সাথে চাই কারিগরি জ্ঞান বেসরকারি ব্যাংকে আতঙ্ক মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছে আরব আমিরাত মানিকগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাঁশখালীতে করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে আলেম ওলামাগণ সিরাজদিখানে সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা বাংলাদেশের সামনে? চুয়াডাঙ্গায় অচল ফ্যান মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু কেরানীগঞ্জে বিচার চাইতে এসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু, আটক ৩ জঙ্গলে বিবাহবার্ষিকী উদযাপনে গিয়ে অন্য রকম সমস্যায় এই যুগল (ভিডিও)

সকল