০৮ মে ২০২১
`

আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানো হলো

আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানো হলো - ছবি : নয়া দিগন্ত

মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে আর্থিক সেবা সঙ্কুচিত করে আনা হয়েছিল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাত্র সাতটি বিভাগ নিয়মিত খোলা রাখা হয়েছিল। ব্যাংকের সময়সূচিও কমিয়ে আনা হয়। এতে ব্যাংকিং খাতের দৈনন্দিন কার্যক্রম বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য জমা দেয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ব্যাংকগুলোর আমদানি-রফতানির কার্যক্রম, বিভিন্ন নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত নেয়া বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যায় পড়ে যান সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য আজ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৪টি বিভাগ খোলা রাখা হবে। এর বাইরে আরো ২০টি বিভাগের প্রধানদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমিত জনবল দিয়ে জরুরি ও প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনাআপনিই তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন বিভাগ খোলা রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের নিয়মিত তথ্য পাঠাতে হবে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চালু হওয়ার পর চলতি মাসের শুরু থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। প্রথমে এ সংক্রান্ত গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য জারিকৃত এক সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে। পরের সপ্তাহে তা আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু ১৪ এপ্রিল থেকে কড়া লকডাউনে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এজন্য ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে পরের দিন রাতে মন্ত্রিপরিষদের আরেক নির্দেশনাবলে ব্যাংকিং কার্যক্রম আবার চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। তবে, বৈদেশিক লেনদেন হয় এমন এডি শাখা ছাড়া প্রতি দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা খোলা রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহে তিন দিন ব্যাংক খোলা রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

এ দিকে সীমিত পরিসরে ব্যাংক লেনদেনের ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪৪টি বিভাগের মধ্যে মাত্র সাতটি বিভাগ চালু রাখা হয়। অন্য ৩৭টি বিভাগ বন্ধ রাখা হয়। শুধু জরুরি প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুই তিনটি বিভাগ থেকে সীমিত লোকবল দিয়ে মাঝে মাঝে ব্যাংকগুলোর জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভাগগুলো বন্ধ থাকায় সামগ্রিক আর্থিক সেবা বলা যায় অচল হয়ে পড়ে। কারণ ব্যাংক কোম্পানি আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু কিছু ব্যাংকি সেবার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কার্যক্রমে বেশি ব্যাঘাত হয়। এর বাইরে বৃহৎ ঋণের অনুমোদন, নির্ধারিত অঙ্কের ঋণ নবায়ন, অবলোপনসহ নানা গ্রাহকসেবা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। আবার, ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন আর্থিক বিবরণী দৈনিক, সপ্তাহ, পাক্ষিক ও মাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দেয়ারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্যাংক সীমিত পর্যায়ে খোলা থাকার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি বিভিন্ন বিভাগ বন্ধ থাকায় এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যাংক। ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্যই আজ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের (২) মহাব্যবস্থাপক মো: মাহবুবউল হক স্বাক্ষরিত মঙ্গলবার জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে আজ ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ২৪টি বিভাগ খোলা রাখতে হবে। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয়েল অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন, সব পরিদর্শন বিভাগ, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম কাউন্টার ও ভল্ট ইত্যাদি খোলা রাখতে হবে। ২৪টি বিভাগের বাইরে অন্যান্য বিভাগের প্রধানদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে সীমিত লোকবল দিয়ে জরুরি ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর ফলে ব্যাংকের এখন বাধ্যতামূলক যেসব আর্থিক বিবরণী জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে, তা জমা দিতে হবে। কেননা ব্যাংকগুলো এত দিন কারণ দেখাতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বন্ধ ছিল। কিন্তু আজ থেকে আর তা বলতে পারবে না। আজ থেকে ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরবরাহ করতে হবে।



আরো সংবাদ