২০ এপ্রিল ২০২১
`

বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় শরিয়াহ বন্ড বেক্সিমকোর

বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় শরিয়াহ বন্ড বেক্সিমকোর - ছবি : সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করবে। দেশে প্রথমবারের মত সুকুক চালু হওয়ার পর বেসরকারি খাতে এটাই সবচেয়ে বড় শরিয়াহ বন্ড।

এই বিষয়ে ৭ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডীতে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের সাথে বেক্সিমকোর চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বেক্সিমকোর পক্ষে গ্রুপ ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও ও বেক্সিমকো পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেডের এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরী, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের এমডি ও সিইও এরশাদ হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিস্তা সোলার লিমিটেডের এমডি রফিকুল ইসলামসহ বেক্সিমকো ও সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এর আগে গত ৪ মার্চ বেক্সিমকোর পর্ষদ সভায় সুকুক বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তা স্টক ঢাকা এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানো হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেলে এই বন্ডের নাম হবে বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিস্না। বেক্সিমকো এই বন্ড থেকে সংগ্রহ করা অর্থ কোম্পানির সাবসিডিয়ারি দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং করতোয়া সোলার লিমিটেডের নির্মাণ কাজে ব্যয় করবে। পাশাপাশি বেক্সিমকোর বস্ত্র খাতের ব্যবসা সম্পসারণে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে এই তহবিলের টাকায়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই বন্ড দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেও তালিকাভুক্ত হবে। প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। ৫০টি সুকুক বন্ড নিয়ে হবে একটি লট। একটি লট কিনতে বিনিয়োগকারীদের ৫ হাজার টাকা দিতে হবে।

শরিয়াহভিত্তিক বন্ড সুকুককে বিবেচনা করা হয় বিনিয়োগ সনদ হিসেবে, যার বিপরীতে সম্পদের মালিকানা দেয়ার নিশ্চয়তা থাকে। বিনিয়োগের জন্য তারা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পান। বেক্সিমকো জানিয়েছে, তাদের সুকুক বন্ডে ৯ শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সাথে মার্জিন যোগ করে ছয় মাস অন্তর বন্ডটিতে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হবে। বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিস্না হবে কনভার্টেবেল। অর্থাৎ এ বন্ডে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে রূপান্তরেরও সুযোগ পাবেন। যদি কোনো বিনিয়োগকারী সুকুককে শেয়ারে রূপান্তর না করেন, তাহলে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সুকুকের অবসায়ন হবে।

এই সুকুক বন্ডের মূল ইস্যুয়ার হবে বেক্সিমকো লিমিটেড। এই বন্ডের বিনিয়োগকারী চাইলে তাদের ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ বেক্সিকোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন ৫ বছর সময়কালে। প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বন্ড শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিন্ম ৫ শতাংশ বা ৫ শতাংশের গুণিতক হারে শেয়ারে রূপান্তর করা যবে।

কোনো বছর কেউ বন্ড শেয়ারে রূপান্তর না করলে পরের বছর ২০ শতাংশের সাথে আগের বছরের বাকি অংশ শেয়ারে রূপান্তর করার সুযোগ পাবনে।

কোনো বন্ড হোল্ডার তার বিনিয়োগ শেয়ারে রূপান্তর করতে না চাইলে ৫ বছর শেষে তার টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন।

তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়ার খবরে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে পুঁজিবাজারে। ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে।



আরো সংবাদ