০৯ মার্চ ২০২১
`

চট্টগ্রামস্থ কোরিয়ান ইপিজেডের আইটি পার্ক জোনকে বেসরকারি হাইটেক পার্ক ঘোষণা

কর্মসংস্থান হবে ২০ হাজার লোকের
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-কোরিয়ান ইপিজেড ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। - ছবি : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামস্থ বেসরকারি কোরিয়ান রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কোরিয়ান ইপিজেড) আইটি পার্ক জোনকে বেসরকারি হাইটেক পার্ক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুরে এ নিয়ে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-কোরিয়ান ইপিজেড ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে দুই বছর মেয়াদী একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম, স্টার্ট আপ বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনা জাবিন এবং কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষের পক্ষে ইয়াংওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সাং নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম উপস্থিত ছিলেন। কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব:) মো: শাহজাহান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সমঝোতার আওতায় কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষের প্রায় ১০০ একর জায়গায় প্রস্তাবিত হাইটেক পার্ককে বেসরকারি হাইটেক পার্ক ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও বিনিয়োগে নীতিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করবে। কোরিয়ান ইপিজেডে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জোন স্পেশালাইজড ল্যাব স্থাপনে সহায়তা এবং একই সাথে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। এছাড়াও সমঝোতার আওতায় স্টার্টআপ বাংলাদেশী ও কোরিয়ান স্টার্টআপদের প্রশিক্ষণ, বৈদেশিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করবে কোরিয়ান ইপিজেডের সাথে।

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি বাড়াতে ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরী করবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সরকার চট্টগ্রামকে প্রযুক্তিনগরীতে পরিণত করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরিয়ান ইপিজেডের এই বেসরকারি হাইটেক পার্কে ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখানকার বিনিয়োগকারীরাও সরকারি হাইটেক পার্কের মতোই ১২ ধরনের সুবিধা পাবেন।

এসময় তিনি সরকারের ভিশন ২০৪১ এর সাথে মিল রেখে এই হাইটেক পার্কে ৪১তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানে ইয়াংওয়ান চেয়ারম্যানের নিকট প্রস্তাব রাখেন। বেসরকারি এই হাইটেক পার্কে কোরিয়ান, আমেরিকান বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান এই সমঝোতাকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের প্রতীক (সিম্বল) হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ যেমনি বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে পঞ্চম বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ বলেও তিনি জানান।

ইয়াংওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, কোরিয়ান ইপিজেডের আইটি পার্ক এই সমঝোতার মাধ্যমে বাস্তবতায় রূপ নিল।



আরো সংবাদ