০২ ডিসেম্বর ২০২০

এনবিআরের মানিলন্ডারিং মামলা কাজে আসছে না


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা ৮২টি মানিলন্ডারিং মামলা কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। দেখা গেছে, শুধু হিসাব-নিকাশের গরমিল পেলেই এনবিআর মুদ্রাপাচার বা মানিলন্ডারিং মামলা ঠুকে দিচ্ছে। কিন্তু এই মামলা পরবর্তীতে মানিলন্ডারিং হিসেবে প্রমাণ করা যায় না। এ পরিস্থিতিতে মানিলন্ডারিং মামলা করার সময় প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেয়ার জন্য এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এর আওতাধীন দফতর ও সংস্থার সাথে এক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলা হয়েছে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো: রহমাতুল মুনিম।

সূত্র জানায়, সভায় অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ছিল ‘মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থ প্রতিরোধ।’ এই বিষয়ে বলা হয়, এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, ঢাকার এ পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৮২টি। এর মধ্যে ৫০টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ৩টি মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এবং ৭টি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য এনবিআরের অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের যৌথভাবে তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সাথে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ জালিয়াতিতে দায়েরকৃত ২১টি মামলা সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে। মানিলন্ডারিং অনুসিদ্ধান্ত শেষে ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০টি পৃথক মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ১৫টি মানিলন্ডারিং অভিযোগ অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ২টি মানিলন্ডারিং অভিযোগ অনুসিদ্ধান্তের জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের গঠিত প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটির পর্যালোচনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

মামলা বিষয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মানিলন্ডারিং বিষয়ে ৮২টি মামলা দায়ের করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এসব মামলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বলা হয়, মামলার তালিকা দীর্ঘ না করে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করতে হবে। মামলার চার্জশিট তৈরি করার সময় কী কী প্রশ্নের উদ্ভব হয় তা নির্দিষ্ট করতে হবে। একই সাথে এই বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য দুদকের সাথে যৌথভাবে কর্মশালা আয়োজনেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ