২৮ অক্টোবর ২০২০

পেঁয়াজ তেলের পর এবার চালে মূল্য বৃদ্ধির খড়গ


চালের দামও বেড়েছে। বস্তায় এক শ’ থেকে দুই শ’ টাকা বেশিতে মানুষ এখন চাল কিনছেন। হঠাৎ চালের এই মূল্য বৃদ্ধিতে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। দেশে এক দিকে চলছে পেঁয়াজের নিয়ে হুলস্থুল, তার সাথে এখন চালের দাম বৃদ্ধি। ভোক্তারা বলছেন, কিভাবে তারা চলবেন তাই ভেবে পাচ্ছেন না।

এমনিতেই করোনার কারণে মানুষের আয় কমেছে। এমনও মানুষ আছেন যাদের আয়ের পুরো পথই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রেতারা বলেছেন, পাইকারি বাজারে ২ টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে বেড়েছে অন্তত ৩-৪ টাকা।

গতকাল রাজধানীর বাদামতলী চালের আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। বস্তায় এক শ’ থেকে দুই শ’ টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। জানা গেছে, ইরি ২৮ চাল কেজিতে ২ টাকা এবং বস্তায় এক শ’ থেকে দেড় শ’ টাকা, মিনিকেট বস্তায় দুই শ’ টাকা বেড়েছে। আগে মিনিকেট ছিল দুই হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে দুই হাজার ৭০০ টাকা। পাইজাম কেজিতে বস্তায় দেড় শ’ টাকা। নাজিরশাইল ৫৬ টাকা কেজি বর্তমানে, বস্তা দুই হাজার ৮০০ টাকা। আগে বস্তা ছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা। কাটারি বর্তমানে কেজি ৮০ টাকা এবং বস্তা চার হাজার টাকা। আগে ছিল তিন হাজার ৮০০ টাকা। চিনিগুঁড়া ৮৫ টাকা কেজি এবং বস্তা চার হাজার ২৫০ টাকা, বাসমতি ৬০ টাকা কেজি এবং বস্তায় তিন হাজার ৫০ টাকা।

বাবুবাজার কদমতলী চাল আড়তদার সমিতির সেক্রেটারি হাজী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে চালের দাম। বস্তায় দেড় শ’ থেকে দুই শ’ টাকা। এটি নাগালের বাইরে নয়। অথচ পেঁয়াজ কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকার চেয়েও বেশি বেড়েছে। চালে কোনো সিন্ডিকেট নেই বলে জানান তিনি। বাদামতলীর সরকার, বিসমিল্লাহ, অন্তু ও সেন্টুসহ একাধিক চালের আড়তদার একই কথা জানান।
তারা বলেছেন, মোকামে চালের দাম বেড়েছে; যে কারণে তাদেরকেও দাম বাড়াতে হয়েছে। তারা বলতে চাচ্ছেন প্রতি বছর এ সময়টা হলে চালের দাম দু-এক টাকা কেজিতে বাড়ে।

এ দিকে ভোক্তারা বলেছেন, খুচরা মার্কেটে চালের দাম আরো বাড়ানো হয়েছে। খুচরা মার্কেটে কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে এমনও অভিযোগ করেন অনেকে। রাজধানীর গোপীবাগের তোফাজ্জল জানান, গত সপ্তাহে যে চাল কিনেছেন ৪২ টাকায়, এ সপ্তাহে সেই চাল কিনতে হয়েছে ৪৫ টাকা কেজি।

ক্রেতারা বলেছেন, এমনিতেই পেঁয়াজের দাম নিয়ে তারা বিপাকে আছেন। এরপর চালের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা আরো বিপাকে পড়লেন।

তোফাজ্জল বলেন, প্রথম বাড়ল পেঁয়াজের দাম। এরপর তেলের। এখন বাড়ানো হলো চালের দামও। মানুষ বাঁচবে কেমনে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার মিন্টু বলেন, মানুষের এমনিতেই ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। করোনার কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন, আবার অনেকের চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই। পরিবার পরিজন অনেকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঢাকায় বাসাবাড়ি ছেড়ে দিয়ে কোনোমতে মেসে ঠাঁই নিয়েছেন। এরপর একটির পর একটি নিত্যপণ্যের দাম এভাবে বাড়লে কিভাবে চলবেন। তাদের সামনে তো আর পথ থাকছে না!


আরো সংবাদ